স্বাস্থকর নয়,প্রচুর বিরিয়ানি নষ্ট করলো কলকাতা পুরসভা

কলকাতার রাস্তার ধারের বিরিয়ানি দোকানগুলোর বিরিয়ানির গন্ধে কলকাতার আকাশ বাতাস ম’ ম’ করে। রাস্তার ধারে বড়ো বড়ো অক্ষরে নাম লেখা থাকে- ‘তাজ বিরিয়ানি’, ‘রয়াল বিরিয়ানি’, ‘হাজি বিরিয়ানি’-সহ আরও কতশত নাম। টিফিন হোক বা সেলিব্রেশন, বিরিয়ানি খেতেই হবে। কিন্তু আমরা কি ভেবে দেখেছি সেই বিরিয়ানি আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে কতটা উপকারী ? কিন্তু বিগত কয়েকমাসে কলকাতা পুরসভার খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ বিভাগের কাছে বিরিয়ানি নিয়ে প্রচুর অভিযোগ জমা পড়ে। আর তারই প্রেক্ষিতে গত ২১শে সেপ্টেম্বর কলকাতার পুরসভার মেয়র পরিষদ সদস্য অতীন ঘোষের নেতৃত্বে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ বিভাগের একটি দল কলকাতার নামি বিরিয়ানি দোকানগুলিতে অভিযান চালায়। বিরিয়ানির অবস্থা দেখে তাদের চক্ষু চড়কগাছ। কোথাও অত্যন্ত নোংরা ঘরে রান্না করা হয়, কোথাওবা কর্মীরা অত্যন্ত অপরিষ্কার। আবার কোথাও কোথাও  বিরিয়ানিতে মেশানো হয়েছে ক্ষতিকারক রং, যা আমাদের শরীরে গেলে নার্ভ-এর রোগ হতে পারে। এমনকি হাতিবাগানের একটি বিরিয়ানি দোকানের বিরিয়ানিতে রং ,মেলায় রাস্তার ধারে এক হাঁড়ি বিরিয়ানি ফেলে দেন পুর আধিকারিকরা। মেয়র পরিষদ সদস্য অতীন ঘোষ জানিয়েছেন,” খাদ্যে ভেজাল রোধে আমাদের এই অভিযান আরো চলবে”।

চলছে যৌনদাসী কেনাবেচা, হায়দ্রাবাদে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৮জন আরবের শেখ

এ যেন অন্ধকার যুগ চলে এসেছে। চলছে যৌনদাসী কেনাবেচা। চাইলেই মিলবে ‘স্ত্রী’। শুধুমাত্র মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হবে। এমন চক্রের হদিশ মিলল হায়দরাবাদে। আরব দেশে বহু শেখের কাছেই এ ভাবেই ‘বিক্রি’ হয়ে যাচ্ছে দেশের বহু মুসলিম নাবালিকা। সম্প্রতি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত তিন জন কাজিকে গ্রেফতার করেছে হায়দরাবাদ পুলিশ। সঙ্গে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন আট জন আরব শেখও। সুদূর আরব দেশ থেকে তাঁরা ‘স্ত্রী’-এর খোঁজে এসেছে এ দেশে। সচ্ছল জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে তাঁদের হাতেই তুলে দেওয়া হচ্ছে মুসলিম নাবালিকাদের। এই দেশ থেকে স্ত্রী বলে নিয়ে গেলেও তাদেরকে যৌন দাসী করে রাখা হচ্ছে। সম্প্রতি তদন্তে এমনই তথ্য উঠে এসেছে হায়দরাবাদ পুলিশের হাতে। হায়দরাবাদ পুলিশের শীর্ষ কর্তা তাজুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, কেবলমাত্র ধনীরাই এই ‘বউ-বাজারে’র ক্রেতা নন। ওই চক্রের সঙ্গে জড়িত এক এজেন্ট ক্রেতাদের অটো-রিকশার মালিক, ইনোভা গাড়ির মালিক, অ্যাম্বাসাডরের মালিক— এমন ক্রেতা বলেও চিহ্নিত করেছে।তাজুদ্দিন আহমেদ বলেন, “এক জন বিবাহিত শেখ তাঁর ছেলে ও বন্ধুর সঙ্গে এ দেশে এসেছেন বিয়ে করতে। শেখের সঙ্গে ছিল তাঁর আগের বিয়ের সার্টিফিকেটও। স্ত্রী নয়, আসলে এক জন পরিচারিকা চান তিনি। যাকে দিয়ে ‘অন্য’ কাজও করানো যাবে।”পুলিশ জানিয়েছে, স্ত্রী খুঁজতে আসা আরব শেখদের সামনে নাবালিকাদের রীতিমতো হাঁটানো হয়। ওই নাবালিকার দরদামও ঠিক করা থাকে। নিজেদের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী এর পর পছন্দসই নাবালিকাকে বেছে নেন আরব শেখরা। পুলিশ আরও জানিয়েছে, বিবাহ-ইচ্ছুক এক জন আরব শেখের বয়স ছিল ৮০। অন্য জন তো বিয়ের নামে ১০ জন নাবালিকার উপর যৌন অত্যাচার চালিয়েছে।গত মাসেই ৬১ বছরের এক শেখ ১৬ বছরের কিশোরীকে বিয়ে করে ওমানে নিয়ে যান। কিশোরীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মানেকা গাঁধী এ বিষয়ে হায়দরাবাদ পুলিশকে তৎপর হতে বলেন। পুলিশি তদন্তে সামনে আসে এই ‘বউ-বাজারে’র কথা। পুলিশের দাবি, আন্ডারওয়ার্ল্ড মাফিয়াদের মতোই তা সক্রিয়।

বন্ধুর স্ত্রীকে পানশালায় ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করলো আরজু হুসেন

প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে ঘনিষ্ঠতা। তারপর সেই ঘনিষ্ঠতা বাড়তেই বন্ধুর স্ত্রীকে পানশালায় ঢেকে ধর্ষণের অভিযোগ। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের ঘটনা। গ্রেফতার অভিযুক্ত। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের বাসিন্দা গহবধূর দাবি, বাড়িতে অনেকদিন ধরেই যাতায়াত ছিল স্বামীর বন্ধু আরজু হুসেনের। সম্প্রতি বধূর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর নেন আরজু। পুলিশ সূত্রে খবর, হোয়াটসঅ্যাপে প্রায়ই স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে চ্যাট করতেন বধূ। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকতে ঘনিষ্ঠতা। বধূর দাবি, ৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে বীরা স্টেশনে ডেকে পাঠান আরজু। সেই মতো বীরা স্টেশনে গেলে সেখান থেকে বধূকে মধ্যমগ্রামের এক পানশালায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগকারিণীর দাবি, পানশালার একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে, মাথায় বন্ধুক ঠেকিয়ে তাঁকে দু’বার ধর্ষণ করেন আরজু। কাউকে কিছু জানালে বধূকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। প্রথমে ভয়ে কাউকে কিছু না বললেও, সোমবার ১৮ই সেপ্টেম্বর  বাড়িতে বিষয়টি জানান বধূ। থানায় অভিযোগ দায়ের হয়।ঐদিন  রাতেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পানশালা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন তদন্তকারীরা।

এবছর বাংলাদেশের হিন্দুদের দুর্গাপূজার ছুটি মাত্র একদিন

বাংলাদেশের হিন্দুদের ধর্মাচরণের ওপর চরম বাধানিষেধ আরোপ করা হলো বাংলাদেশে। দুর্গাপূজার মূল অনুষ্ঠান পাঁচদিনের হলেও বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকার এবছর হিন্দুদের ছুটি দিয়েছে একদিনের। অথচ এই একই সরকার এইবছর ঈদে ছুটি দিয়েছিলো দশদিনের, যদিও ঈদের মূল অনুষ্ঠান একদিনের। সংখ্যালঘু হিন্দুদের প্রতি এই বঞ্চনা শুধুমাত্র মুসলিম দেশেই সম্ভব। অথচ আমাদের এই সংখ্যাগুরু হিন্দুর রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ধর্মাচরণের স্বাধীনতা কোর্টের এদেশে রক্ষিত হচ্ছে। এখানে সংখ্যালঘুদের প্রতি বাংলাদেশের মতো আচরণ হলে যে কি হবে তা একমাত্র ভগবানই জানেন। এপ্রসঙ্গে বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞ ইতিহাসবিদ শান্তনু সিংহ বলেন, ” আওয়ামী লীগ সরকারের এই পদক্ষেপ সংখ্যালঘু হিন্দুদের প্রতি চরম অন্যায় ছাড়া কিছুই নয়”।

এবার স্বরূপনগরে ২৯জন মুসলিম অনুপ্রবেশকারী ধৃত

উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের স্রোত চলছেই। এবার স্বরূপনগর থানার পুলিশ ২৯ জন বাংলাদেশী মুসলিম অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করলো। রবিবার, ১৭ ই সেপ্টেম্বর রাতে স্বরুপনগরের তেঁতুলিয়া খালধার এলাকায় ওই বাংলাদেশিদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তারা এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলো। স্থানীয় লোকজনের কাছে পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ প্রথমে তাদের আটক করে। কিন্তু তারা পুলিশকে পাসপোর্ট, ভিসা কোনো বৈধ কাগজ দেখতে পারেনি। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, চোরাপথে দালাল ধরে তারা বাংলাদেশ থেকে এদেশে এসেছে। বেআইনি অনুপ্রবেশ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উরি সেক্টরে শহীদ গঙ্গাধর দোলুইয়ের মূর্তি উন্মোচণ করলেন তপন ঘোষ

31গত বছর জম্মু-কাশ্মীরের উড়ি সেক্টরে পাকিস্তান থেকে আসা জঙ্গিদের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছিলেন হাওড়া জেলার জগৎবল্লভপুর থানার যমুনা-বালিয়া গ্রামের গঙ্গাধর দোলুই। তার পরিবারের পাশে হিন্দুসংহতি প্রথম থেকেই ছিল। সেই সময়ে একটা অর্থ সাহায্যও তার পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছিল হিন্দু সংহতি। গতকাল ১৮ ই সেপ্টেম্বর ভারতমাতার এই বীর সন্তানের বলিদানের প্রথমবর্ষ পূর্তি হলো। সেই বলিদানকে স্মরণ করতে যমুনা-বালিয়া  গ্রামের বাসিন্দারা মিলে ”গঙ্গাধর দোলুই স্মৃতিরক্ষা কমিটি” গঠন করেন। তাদের প্রচেষ্টা ও হিন্দু সংহতির সহায়তায় গঙ্গাধর দোলুইয়ের একটি মূর্তি স্থাপন করা হলো তার গ্রাম যমুনা-বালিয়াতে। সেই মূর্তি উদ্বোধন করতে  গ্রামবাসীরা আমন্ত্রণ জানিয়েছিল হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা তপন ঘোষ মহাশয়কে। সঙ্গে ছিলেন হিন্দু সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ঋদ্ধিমান আর্য। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হাওড়া জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংহতি কর্মী মুকুন্দ কোলে। ওই অনুষ্ঠানে আশেপাশের এলাকা থেকে বহুসংখক হিন্দু সংহতি কর্মী উপস্থিত ছিলেন।7

রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজ্যের বক্তব্য জানতে চেয়ে মুখ্যসচিবকে চিঠি দিল হিন্দু সংহতি

untitled1গতকাল ১৪ই সেপ্টেম্বর হিন্দু সংহতির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দেবদত্ত মাজি হিন্দু সংহতির পক্ষে রাজ্যের মুখ্য সচিব মলয় দে-কে চিঠি দিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজ্য পক্ষে নাকি রোহিঙ্গাদের বিপক্ষে তা জানতে যান। শ্রী মাজি তার চিঠিতে বিশেষভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সব রাজ্যকে পাঠানো নোটিফিকেশনের উল্লেখ করে জানতে চান যে কেন্দ্র তার নোটিফিকেশনে,- MHA No- 24013/ 29/ Misc/ 2017- CSR-III-dated- 08/08/2017, ভারতে বেআইনিভাবে বসবাসরত সমস্ত রোহিঙ্গাকে চিহ্নিত ও তাদেরকে মায়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্যে কেন্দ্র সরকারকে সাহায্যের কথা বলেছে। সেই নোটিফিকেশনে একথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে ”বিগত বছরগুলিতে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে বেআইনি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ফলে ভারতের সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ পড়ছে, যা ভারতের পক্ষে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তাছাড়া এই অনুপ্রবেশ ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পক্ষেও বিপজ্জনক।”  কিন্তু বিগত দিনের মিডিয়া রিপোর্টে এটা  স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে যে  রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের নির্দেশ মানবেন না বলেছেন এবং  রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে সুযোগসুবিধা দেবার কথা বলেছেন। এক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব চিঠির উত্তর দিয়ে রাজ্য সরকারের মনোভাব জানানোর অনুরোধ করা হয় হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে।

ভগিনী নিবেদিতার স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে চুরি

nibeditaভাঙচুর করা হলো  দার্জিলিঙের রায় ভিলায়। বুধবার গভীর রাতে রামকৃষ্ণ মিশনের এই ভবনে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ভগিনী নিবেদিতার স্মৃতি বিজড়িত এই ভবনে রামকৃষ্ণ মিশন নানা জন কল্যাণমূলক কাজ চালায়। ঘরের আসবাবও ভাঙচুর করা আশ্রমের প্রণামী বাক্স ভেঙে টাকা নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় দার্জিলিং জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে পুলিশের ধারণা, দুষ্কৃতীরাই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। এর সঙ্গে পাহাড়ের আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই।

১৯১১ সালের ১৩ অক্টোবর এই বাড়িতেই মারা যান নিবেদিতা। তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি ‘রায় ভিলা’ বাঙালির স্মৃতি স্মারক। তাঁর সার্ধ শতবর্ষে সমগ্র দেশবাসী যখন তাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাচ্ছে ঠিক এ সময়ে ভাঙচুর করা হল ইউনির্ভাসাল প্রেয়ার হল এবং নিবেদিতা যে ঘরে শেষ নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন, তার জানালা দরজা। ভাঙা হয়েছে কাচগুলিও।

বাড়িটি ২০১৩ সালের ১৬ মে রামকৃষ্ণ মিশনকে হস্তান্তর করা হয়। ১০ জুলাই সংস্কার শুরু হয়। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি দ্বারোদ্ঘাটন হয় বাড়িটির। এখন ওই বাড়িতে রামকৃষ্ণ মিশন নিবেদিতা এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল সেন্টার চালায় রামকৃষ্ণ মিশন।

জগদীশচন্দ্রের স্ত্রী অবলা বসুর ভগ্নীপতি দ্বারকানাথ রায়ের বাড়ি এই রায়ভিলা। নিবেদিতা কখনও অবসর যাপন করতে, কখনও ভগ্নস্বাস্থ্য উদ্ধারের আশায় আশ্রয় নিতেন। সঙ্গী হতেন বসু দম্পতি। কর্মব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে কেটে যেত দিনগুলি। কখনও নিজের খেয়ালে ঘুরে বেড়াতেন রয়ভিলার কাছাকাছি লেবং, সিংমারী পাহাড়ি গ্রামগুলিতে। পাহাড়ি মানুষদের সম্পর্কে তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, ‘‘এঁরা সকলেই সাহসী, পরিশ্রমী ও ধর্মপ্রাণ।’’ কখনও বা সহযোগিতা করছেন জগদীশচন্দ্রের গবেষণাপত্র তৈরির কাজে।

১৯১১ সালে আমেরিকা থেকে ফিরে নিবেদিতার শরীর স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়ে। আরোগ্যের জন্য জগদীশচন্দ্রের প্রস্তাব মেনে তাঁর দার্জিলিং যাত্রা। বসু দম্পতি আগেই পৌঁছে গেলেন দার্জিলিংয়ে।

২১ সেপ্টেম্বর মিস্টার ও মিসেস এস কে রাটক্লিফকে চিঠিতে জানাচ্ছেন, পরের দিনই তাঁরা বেরোচ্ছেন। পরিকল্পনা ছিল সিকিম সফরে যাবার। হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। যাত্রা মুলতুবি রইল। রোগাক্রান্ত নিবেদিতার সেবা যত্নের ভারটি নিয়েছিলেন বসুজায়া। নিবেদিতা বুঝতে পেরেছিলেন শেষের দিন সমাগত। মৃত্যুকে রোধ করা যাবেনা। তারই ভাষায় ‘‘লেট দেয়ার বি নো হাইডিং আ্যন্ড ডোন্ট ট্রাই টু প্রোলং।’’ ৭ অক্টোবর তাঁর নির্দেশ মতো উকিল ডাকা হল, দানপত্র তৈরি করলেন।

সঞ্চিত অর্থ, গ্রন্থস্বত্ব থেকেভবিষ্যতে আয়ের অর্থ ও নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য তুলে দিলেন বেলুড় মঠের ট্রাস্টিদের হাতে। অন্তিম প্রহরে বুদ্ধ বাণী পাঠ করে শোনালেন অবলা। নিবেদিতার নিস্তেজ কন্ঠ বেয়ে উপনিষদের বাণী। বললেন ‘‘তরণী ডুবছে, আমি কিন্তু সুর্যোদয় দেখব।’’ ১৩ অক্টোবর খুলে ফেললেন অক্সিজেনের নলটি। মাত্র ৪৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ফেললেন শৈলশহরের কোলে রায় ভিলায়।

সেই বাড়িটিতেই হামলার খবরে বিমর্ষ পাহাড়, সমতল।

রোহিঙ্গা সংকটে মায়ানমারের পক্ষে দাঁড়ালো চীন

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরী বৈঠকের প্রাক্কালে চীন আবারও মায়ানমারের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছে। আজ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এই জরুরী বৈঠকটি হতে চলেছে। জানা গেছে, ব্রিটেন এবং সুইডেনের অনুরোধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এই জরুরী বৈঠক ডাকা হয়েছে। কিন্তু সেখানে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হত্যা-নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগে মায়ানমারের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা এখনো পর্যন্ত ক্ষীণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশের যে কোন দেশ একটি যদি কোন প্রস্তাব বা সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেয়, তাহলে সেটি আটকে যায়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠকে তাই ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ, চীন এখনো পর্যন্ত রোহিঙ্গা সংকটে মায়ানমার সরকারের গৃহীত সব ব্যবস্থাকে শতভাগ সমর্থন জানিয়ে চলেছে।

গতকাল চীন আবারও বলেছে, তারা ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা’ রক্ষায় মায়ানমার সরকারের পাশে আছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং বলেছেন, “মায়ানমার সরকার তাদের জাতীয় উন্নয়নের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার যে চেষ্টা করছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তার পাশে থাকা।” মনে করা হচ্ছে চীন মায়ানমারের পক্ষে এই বিবৃতি দিয়েছে যাতে করে নিরাপত্তা পরিষদের আজকের বৈঠকে মায়ানমারের নিন্দা করে কোন প্রস্তাব আনা না যায়।

রাশিয়ার অবস্থানও মায়ানমারের পক্ষে বলে মনে করা হচ্ছে। মায়ানমারের বিরুদ্ধে কোন প্রস্তাব যদি ভোটাভুটিতে দেয়া হয়, তাহলে রাশিয়া তাতে কতটা সমর্থন দেবে, সেটা নিয়ে সংশয় আছে। জাতিসংঘের কূটনীতিকদের উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, রোহিঙ্গা সংকটে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কোন মাথা গলাক, সেটা চীন চায় না।

মুর্শিদাবাদের মসজিদে বিস্ফোরণ, গ্রেপ্তার চার

শক্তিপুরের ভাঙাপাড়ায় মসজিদে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সাত অভিযুক্তের মধ্যে চারজনকে গত ৬ই সেপ্টেম্বর, বুধবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে সাদ্দাম শেখ ও লালন শেখ পুলিশ হেপাজতে রয়েছে। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মসজিদের পাশেই সাদ্দামের বাড়ি। সে পেশায় মুদিখানার মালিক। রবিবার রাতে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ঘরের ছাদ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ১২ই সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার ধৃতদের বহরমপুরে সিজেএম আদালতে তোলা হবে। সাদ্দামকে ফের হেপাজতে নেওয়ার আবেদন আদালতে জানাতে পারে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, এক সপ্তাহ আগে গত ৩রা সেপ্টেম্বর, রবিবার রাতে ভাঙাপাড়ায় মসজিদে বোমা বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের বিকট আওয়াজে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। আইন-শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে এখনও ওই মসজিদ চত্বরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তিনদিন আগে সিআইডির বহরমপুর শাখা এলাকাটি পরিদর্শন করে। এবার বিস্ফোরণের ঘটনায় ধৃত সাদ্দামের বাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা পুলিশ ও গোয়েন্দাদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দাদের সন্দেহ, শুধু বোমা নয়, গোলমালের উদ্দেশ্যে এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্রও মজুত করা হয়েছে। বিস্ফোরণ কাণ্ডে ফেরার তিন অভিযুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র মজুতের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করত। ধর্মীয় স্থানের পরিবর্তে আগ্নেয়াস্ত্রগুলি বাড়ির গোপন ডেরায় মজুত করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তাই সাদ্দামকে ফের হেপাজতে নিতে চাইছে পুলিশ। জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ওই ঘটনার সমস্ত দিক গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফেরারদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।