পাচারের আগে আলিপুরদুয়ারে উদ্ধার ২ আদিবাসী যুবতী, গ্রেপ্তার সাদ্দাম হোসেন

বেশিরভাগ চা বাগানই বন্ধ। কাজ নেই, বাড়িতে অভাব। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আদিবাসী পরিবারের মেয়েদেরকে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে ভারতের অন্য রাজ্যের যৌনপল্লীগুলিতে। রীতিমতো দল বেঁধে  পাচারকারীরা ঘাঁটি গেড়েছে চা বাগানগুলিতে। কাজের  টোপ দিয়ে  ভিনরাজ্যে পাচারের আগে কালচিনি থানার পুলিশ ১৪ই অক্টোবর, শনিবার সকালে হাসিমারা থেকে দুই আদিবাসী যুবতীকে উদ্ধার করে। নারীপাচারের অভিযোগে এদিনই পুলিশ এক মহিলাকে আটক করে এবং এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। কালচিনি থানার ওসি লাকপা লামা বলেন, কালচিনির একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাহায্যে চা বাগানের দুই যুবতীকে এদিন হাসিমারা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সাদ্দাম হোসেন নামে নারীপাচার চক্রের এক পান্ডাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত এক মহিলা এজেন্টকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর দুই যুবতীকে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দুই যুবতীর বাড়ি কালচিনির ভাতখাওয়া চা বাগানে। গত পাঁচ দিন ধরে ওই দু’জন নিখোঁজ ছিল। এনিয়ে যুবতীদের পরিবার পুলিশকে অভিযোগও জানায়। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে লোহিত এক্সপ্রেসে দুই কিশোরীকে এদিন পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেকারণেই তাদের হাসিমারায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এদিন পুলিশ হাসিমারা থেকে তাদের উদ্ধার করে।

সুরেন্দ্র সিনহাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করলো হাসিনা সরকার

surendra-sinhaগত ১৩ই অক্টোবর, শুক্রবার রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা থেকে রওনা হলেন বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রথম হিন্দু প্রধান বিচারপতি এস কে সিন্‌হা। ছুটি নিয়ে বিমানবন্দরের পথে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, “প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করলে এটি সহজেই অনুমেয় যে, সরকার উচ্চ আদালতে হস্তক্ষেপ করছে এবং এর দ্বারা বিচার বিভাগ ও সরকারের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হবে। এটি রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।” বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতির চাকরির মেয়াদ রয়েছে আরও সাড়ে তিন মাস।

বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করে বিচারপতি সিন্‌হার দেওয়া চিঠির উল্লেখ করে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ‌আমেরিকা এবং ব্রিটেন— এই চারটি দেশে যেতে চান। আগামিকাল ১৩ই অক্টোবর দেশ ত্যাগ করতে চান এবং ১০ নভেম্বর দেশে ফিরে আসবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।” বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, বর্ধিত ছুটিতে প্রধান বিচারপতির বিদেশে অবস্থানের সময়ে, অর্থাৎ ২ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত, অথবা তিনি দায়িত্বে না ফেরা পর্যন্ত বিচারপতি মহম্মদ আব্দুল ওয়াহাব মিঞা প্রধান বিচারপতির কার্যভার সামলাবেন। চলতি বছরের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ  রায় প্রকাশের পর থেকেই সরকারে থাকা আওয়ামি লিগের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়েন বিচারপতি এস কে সিনহা।বাংলাদেশের বিচারপতিদের পদ থেকে অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফেরাতে আনা হয়েছিল সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী। সেই সংশোধনী বাতিল করে জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনকালে প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ফিরিয়ে আনে সুপ্রিম কোর্ট। সাত বিচারপতির ঐকমত্যের ৭৯৯ পৃষ্ঠার এই রায়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নিজের পর্যবেক্ষণের অংশে দেশের বিভিন্ন বিষয়ের সমালোচনা করেন।

আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামি লিগের বিভিন্ন স্তর থেকে প্রধান বিচারপতির তীব্র সমালোচনা করা হয়। পর্যবেক্ষণে বঙ্গবন্ধুকে ‘খাটো করা হয়েছে’ অভিযোগে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিও এসেছিল। তখন বিএনপি এ রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে স্বাগত জানিয়েছিল। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রধান বিচারপতির বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামি লিগের আইন সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, “প্রধান বিচারপতি বিদেশ যাওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন। সেখানে তিনি অসুস্থতার কথা বলেছেন। কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে।” তিনি বলেন, “প্রধান বিচারপতি আইসিডিডিআরবিতে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। এর থেকেই বোঝা যায় তিনি অসুস্থ। তিনি তাঁর লিখিত আবেদনেও বলেছেন, তিনি অসুস্থ। তাঁর ছুটি চাওয়ার পেছনে আওয়ামি লিগ বা সরকারের কোনও চাপ ছিল না।”

নারীপাচারকারীকে ধরতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশকর্মীরা,আহত ৫

pulishনারী পাচারকারী কালাম তরফদারকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে তার প্রতিবেশী ও সঙ্গীদের হাতে বেধড়ক মার খেলেন পুলিশকর্মীরা। ঘটনাটি গত ১৪ই অক্টোবর শনিবার উত্তর ২৪ পরগণা জেলার গোপালনগর থানার অন্তর্গত গঙ্গানন্দপুর পঞ্চায়েতের মাঝডোবা গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে,এই ঘটনায় এক মহিলা এএসআই সহ দুই পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। গত ১২ই অক্টোবর,বৃহস্পতিবার কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ গোলাম মোস্তাফা নামের এক নারী পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে। তার সহযোগী কালাম তরফদারকে ধরতে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ গোপালনগর থানার পুলিশকে নিয়ে ওই গ্রামে যায়। তখনই আক্রান্ত হয় পুলিশ। বলাই বাহুল্য,পুলিশকে আক্রমণকারীরা সকলেই ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।

স্বামীর অধিকার নিয়ে ঝগড়া, দুই বিবির কাটা গেল কান

মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকলের মোজামপুর এলাকার বাসিন্দা সিন্টু শেখের দুই বিবি কুলসোনা বিবি ও চাঁদমণি বিবি। সিন্টু শেখ রাজ্যের বাইরে কেরালায় কাজের সূত্রে গিয়েছিলো। কয়েকদিন আগেই সে বাড়ি ফিরে আসে। স্বামী বেশি সময় কাটায় অন্যজনের কাছে – স্বামীর প্রতি এই অভিযোগ করে সিন্টু শেখের দুই বিবি। আর এই নিয়ে গত ১৪ই অক্টোবর বিকেলে দুই বিবির ঝগড়া চরমে ওঠে। তাতেই তারা বঁটি নিয়ে একে অপরকে আক্রমণ করে বসে। তাতেই কুলসোনা বিবির ডান কান এবং চাঁদমনি বিবির বাঁ কান কাটা যায়। বর্তমানে দুজনেই মুর্শিদাবাদ জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি।

তুফানগঞ্জে পাচারকারীদের আক্রমণে জখম বিএসএফ জওয়ান

গত ১২ই অক্টোবর, বৃহস্পতিবার রাতে তুফানগঞ্জে দুষ্কৃতীদের হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন বিএসএফের হেড কনস্টেবল। ওই জওয়ান কোচবিহার এমজেএন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহতের নাম রামচরণ সিং। তিনি তুফানগঞ্জের বালাভূতের ঝাউকুঠিতে গোয়েন্দা বিভাগে কর্তব্যরত ছিলেন। তিনি বৃহস্পতিবার রাত ৮টা নাগাদ সীমান্ত থেকে সাইকেলে করে ক্যাম্পে ফিরছিলেন। রাস্তায় দুষ্কৃতীরা তাঁকে আক্রমণ করে। লাঠি দিয়ে তাঁকে প্রচণ্ড মারা হয়। খবর পেয়ে অন্যান্য জওয়ানরা তাঁকে উদ্ধার করে তুফানগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁকে কোচবিহার এমজেএন হাসপাতালে রেফার করা হয়। অন্য জওয়ানদের দেখে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় তুফানগঞ্জ থানায় অভিযোগ জানিয়েছে বিএসএফ। তুফানগঞ্জ থানা জানিয়েছে যে তাদের সন্দেহ পাচারকারীদের প্রতি।  ঘটনার তদন্ত চলছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

উপত্যকায় ফের বড়সড় সাফল্য সেনার, খতম শীর্ষ লস্কর কমান্ডার-সহ ২ জঙ্গি

indian-army_web-1-1জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসদমন অভিযানে ফের বড়সড় সাফল্য পেল সেনা। শনিবার, ১৪ই অক্টোবর সকালে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে খতম হয়েছে শীর্ষ লস্কর কমান্ডার সহ দুই জঙ্গি। সেনা সূত্রে খবর, পুলওয়ামার লিটার গ্রামে জঙ্গিদের একটি ডেরার সন্ধান পাওয়া যায়। ওই ঘাঁটিতে এক শীর্ষ লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গির লুকিয়ে থাকার খবরও মেলে গোপন সূত্রে। তারপরই অভিযানে নামে সেনা। ঘিরে ফেলা হয় গোটা এলাকা। পালানোর পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জওয়ানদের উপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। শুরু হয় তুমুল গুলির লড়াই। বেশ কিছুক্ষণ লড়াই চলার পর সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হয় কাশ্মীর উপত্যকার লস্করের শীর্ষ কমান্ডার ওয়াসিম শাহ ও আরও এক জঙ্গি। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও জারি রয়েছে সংঘর্ষ। গোটা এলাকা ঘিরে ধরে চিরুণি তল্লাশি শুরু করেছে সেনা। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বাহিনী। কাশ্মীর উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান তীব্রতর করে তুলেছে সেনা। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জঙ্গি হামলাও। তবে একের পর এক শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের খতম করায় রাজ্যে প্রায় কোণঠাসা সন্ত্রাসবাদীরা। এমনকী প্রাণের ভয়ে জঙ্গি সংগঠনগুলির কমান্ডার পদে নিযুক্ত হতে চাইছে না কেউ। বুধবার, বান্দিপোরা জেলার হাজিন এলাকায় সেনার একটি কনভয়ের উপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। ওই হামলায় নিকেশ হয় ২ জঙ্গি। শহিদ হন দুই জওয়ানও। এর আগে সোমবার বারামুলার রফিয়াবাদে সেনার গুলিতে খতম হয় জইশ-ই-মহম্মদের সিনিয়র কমান্ডার উমের খালিদ। শ্রীনগর বিমানবন্দরের কাছে বিএসএফের একটি ছাউনিতে জঙ্গি হামলা ও পুলওয়ামার জেলা পুলিশ লাইনে জঙ্গি হামলার মূল অভিযুক্ত ছিল খালিদ। একই দিনে সোপিয়ান নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে জেলায় সংঘর্ষে নিহত হয় জইশের তিন জঙ্গি।

হিন্দুবীর দয়াল বর্মনকে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনলো হিন্দু সংহতি

rayganjযারা হিন্দুর স্বার্থে জিহাদি শক্তির বিরুদ্ধে লড়েছে, হিন্দু সংহতি জন্মলগ্ন থেকেই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আর এবারও তার অন্যথা হলো না। রায়গঞ্জের হিন্দু সংহতির কর্মী দয়াল বর্মনকে হিন্দু সংহতি জেল থেকে ছাড়িয়ে আনলো গত ১২ই অক্টোবর। দয়াল বর্মন উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ থানার অন্তর্গত ভটোসা গ্রামের বাসিন্দা। গত দুর্গাপূজা চলাকালীন মহাঅষ্টমীর দিন গ্রামেই দুর্গা মণ্ডপে অঞ্জলি চলছিল। কিন্তু তখন গ্রামের মসজিদে আজানও চলছিল জোরকদমে। অনেকেই মুসলিমদের অনুরোধ করেন মাইকের আজানটা অঞ্জলীর সময় বন্ধ রাখার জন্যে। কিন্তু সংখ্যালঘু ভাইয়েরা সেকথা শোনেনি। তখন গ্রামের বীর যুবক দয়াল বর্মন একাই মসজিদে উঠে মাইক খুলে নামিয়ে নেন। মহাঅষ্টমীর  অঞ্জলিও শেষ হয় নির্বিঘ্নে। কিন্তু  মসজিদের পক্ষ থেকে দয়ালের বিরুদ্ধে রায়গঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ওই দিনই পুলিশ দয়ালকে গ্রেপ্তার করে। গত ১২ই অক্টোবর দয়াল জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দয়ালকে মালা দিয়ে বরণ করে নেয় হিন্দু সংহতি কর্মীরা। পরে সংহতির কর্মীরা মিছিল করে তাকে তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেয়।

বন্ধ হয়ে যাওয়া মহরম চালু করলো পুলিশ

ঘটনাটি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নামখানা থানা এলাকার।ওই  এলাকার উত্তর চন্দনপিড়ির মাইতি বাজারে মাঠে দীর্ঘ তেরো বছর ধরে সর্বজনীন দূর্গা পূজা হয়ে আসছে। কিন্তু ওই মাঠেই মহরম করতো মুসলিমরা। কিন্তু মুসলিমদের ওই মাঠে মহরমে মিছিল বের করা,অস্ত্র প্রদর্শন ইত্যাদি কারণে এলাকার হিন্দুরা মহরম অনুষ্ঠান থেকে মুখ  ফিরিয়ে নিয়েছিলেন।অনেক হিন্দুই এই পূজা মণ্ডপের মাঠে মহরমে আপত্তি তোলেন। আর তাতেই গত দুবছর ধরে বন্ধ ছিল মহরমের অনুষ্ঠান। কিন্তু নামখানা থানার নতুন ওসি তরুণ রায় নিজে থেকেই উদ্যোগী হয়ে বাজার কমিটি,মহরম কমিটি ও পুজো কমিটিকে প্রস্তাব দেন মহরম চালু করার জন্যে। তিনি এতটাই আগ্রহী ছিলেন মহরম চালু করার জন্যে যে, তিনি সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসেন।তাতেই রাজি হয়ে যায় সব পক্ষ।  শেষ পর্যন্ত দুদিন ধরে হলো মহরমের লাঠি খেলা। তবে নেতা ও পুলিশের চাপে স্থানীয় অনেক হিন্দু প্রকাশ্যে প্রতিবাদ না করলেও তারা এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ বলে জানিয়েছেন। তবে কার অঙ্গুলিহেলনে ওসি মহরম চালু করার জন্যে উদ্যোগী হলেন তা পরিষ্কার নয়। তবে পুলিশ এই মেকী সম্প্রীতির নেশায় মগ্ন। কারণ এব্যাপারে সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার তথাগত বসু বলেন, ”নামখানায় সম্প্রীতির বাতাবরণ নতুন করে চালু করতে পেরে আমাদের ভালো লাগছে”।

রায়গঞ্জে দুর্গা মণ্ডপে চুরি, এলাকায় ছড়ালো উত্তেজনা

গত ৩রা অক্টোবর মঙ্গলবার  রাতে রায়গঞ্জ থানা থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে লিচুতলা দুর্গাপুজো কমিটির স্থায়ী মণ্ডপের দুর্গা প্রতিমার শরীরের বেশকিছু অলংকার ও ক্লাবের আলমারি ভেঙে নগদ টাকা চুরির ঘটনায় এলকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।  চুরির বিষয়টি মঙ্গলবার সকালে লিচুতলা ক্লাবের সদস্যদের নজরে আসে। লিচুতলা ক্লাবের পুজো কমিটির সদস্যদের দাবি, প্রায় ২০ ভরি সোনার গয়না ও নগদ দু’লক্ষ টাকা খোয়া গিয়েছে।

সকালে লিচুতলা ক্লাবের সদস্যরা ক্লাবে এসে দেখেন দরজার তালা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। তাঁরা লক্ষ্য করেন ক্লাবের লোহার আলমারির দরজাও খোলা। সেখান থেকে বেশকিছু সোনার গয়না ও চাঁদা বাবদ সংগৃহীত প্রায় দু’লক্ষ টাকাও নেই। এরপরেই তাঁরা দুর্গা মণ্ডপে গিয়ে দেখেন প্রতিমার গলা থেকে আড়াই ভরির সোনার হার, টিকলি, সোনার চোখ, দু’টি বাজুসহ আরও কিছু গয়না উধাও হয়ে গিয়েছে।

লিচুতলা ক্লাবের সভাপতি সঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, রাতে ক্লাবের গেটে তালা দেওয়া ছিল। তালা ভেঙে দুষ্কৃতীরা ভিতরে ঢুকে মায়ের গায়ের থেকে সোনার গয়না ও ক্লাবের আলমারি ভেঙে কিছু গয়না ও নগদ দু’লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে। রায়গঞ্জ থানার আইসি সুমন্ত বিশ্বাস বলেন, পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

সংখ্যালঘু স্কলারশিপের আবেদনের সময়সীমা আরও একমাস বাড়ল দুই বর্ধমানে

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় সংখ্যালঘু স্কলারশিপে আবেদনপত্র গতবারে মোট উপভোক্তার তুলনায় কম। বেশকিছু জেলায় এরকম ঘটনা ঘটনায় পোস্ট-ম্যাট্রিক স্কলারশিপের আবেদন করার সময়সীমা আরও একমাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রি-ম্যাট্রিক স্কলারশিপের ক্ষেত্রেও আবেদনের সময়সীমা বাড়তে পারে বলে পূর্ব বর্ধমানের ডিস্ট্রিক্ট অফিসার অব মাইনোরিটি অ্যাফেয়ার্স শামস তিবরেজ আনসারি জানিয়েছেন।

গত বছর অবিভক্ত বর্ধমানে সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রি-ম্যাট্রিক স্কলারশিপ পেয়েছে ১ লক্ষ ৬০ হাজার ৪০২৩জন। পোস্ট ম্যাট্রিক স্কলারশিপে উপভোক্তার সংখ্যা ১৬ হাজার ১০০। এবছর ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের দুটি ক্যাটাগরিতে আবেদনের সময়সীমা ধার্য ছিল। দুই বর্ধমানে প্রি-ম্যাট্রিক স্কলারশিপের জন্য আবেদন করেছে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ছাত্রছাত্রী। গত বারের তুলনায় ৩০ হাজার কম। আবার পোস্ট ম্যাট্রিকে আবেদনপত্র জমা পড়েছে ১৫ হাজার। গত বছরের তুলনায় এক হাজার কম।

গত দু’-আড়াই মাস ধরে সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপের জন্য আবেদনপত্র জমা চলছে। গত বছরের তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা কম কেন তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রী পড়ুয়ার সংখ্যা কমছে, নাকি স্বেচ্ছায় অনেকে স্কলারশিপের জন্য আবেদন করছেন না সেটাই এখন প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছে ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবেদন করার ক্ষেত্রে যাতে কেউ বাদ না পড়েন সেজন্য আরও একমাস সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে বর্ধমানে সংখ্যালঘু কমিশনের বৈঠক হয়। সেখানে কমিশনের চেয়ারম্যান আবু আয়েশ মণ্ডল সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপে আবেদনপত্র সংগ্রহ করার উপর বিশেষ জোর দিতে নির্দেশ দেন। দুর্গাপুজোর সময় স্কুল খোলা রেখে ওই আবেদনপত্র নেওয়ার নির্দেশিকা জারি করেছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক। তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। যার জেরে নির্দেশিকা সংশোধন করা হয়। তা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গত বছরের তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা কম। এনিয়ে কারণ খোঁজা হবে বলেও জেলা সংখ্যালঘু দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।