ব্যারাকপুর মসজিদ মোড়ে বোনের সম্মান বাঁচাতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত দাদা

barakpur-mosjidmor-boner-sommnaবোনকে দুষ্কৃতীদের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হল এক যুবক। গত ১০ই নভেম্বর,  শুক্রবার রাত ১০:৩০ নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে ব্যারাকপুরের মসজিদ মোড়ের কাছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী টিউশন শেষ করে দাদার সঙ্গে সাইকেলে বাড়ি ফিরছিল এক কিশোরী। ঠিক সেই সময় বাইক নিয়ে তিন দুষ্কৃতী তাদের পিছু নেয়। ওই কিশোরীকে নানা রকমের কটূক্তি করতে থাকে দুষ্কৃতীরা। সেই সময় বোনের সম্মান বাঁচাতে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় দাদা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। মত্ত অবস্থায় থাকা দুষ্কৃতীরা কিশোরীর দাদার উপরে চড়াও হয়ে তাকে শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করে। এমনকি কিশোরীকেও মারধর করা হয়। তাতে ওই কিশোরীর দাদা আহত হয়। কিশোরীর চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আসতে দেখে বাইক রেখেই ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় ওই দুষ্কৃতীর দল। পরে আহত কিশোরী ও তার দাদাকে স্থানীয় বিএন বসু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাদের ছেড়ে দেয় চিকিৎসকরা।

পুলিশ ওই দুষ্কৃতীদের বাইক আটক করেছে। পাশাপাশি ওই দুষ্কৃতীদের ধরতে গোটা এলাকা জুড়ে শুক্রবার গভীর রাত থেকে তল্লাশি অভিযায় শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় গোটা ব্যারাকপুর জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি তাদের আসতে দেখেই চম্পট দেয় ওই দুষ্কৃতীর দল। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার প্রতিও ক্ষোভ উগরে দেয় তারা। আক্রান্ত কিশোরীর বয়ান অনুযায়ী ওই দুষ্কৃতীদের স্কেচ তৈরি করছে পুলিশ। পুরো ঘটনাটির তদন্ত করছে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ।

সুপ্রিম কোর্ট নিষিদ্ধ করার পরও স্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে তালাক দিলেন অধ্যাপক স্বামী

শীর্ষ আদালতের রায়ে তিন তালাক বেআইনি হয়েছে দু’মাস হয়ে গেল। কিন্তু বাস্তবে এখনও বহাল তবিয়তে বর্তমান তিন তালাকের অভিশাপ। অভিযোগ, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খালিদ বিন ইউসুফ খান হোয়াটসঅ্যাপে তালাক দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিন খালিদকে।

একেবারে ভেঙে পড়ে ৩ সন্তানের মা ইয়াসমিন বলেছেন, যদি বিচার না পান তবে সন্তানদের নিয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের বাসভবনের সামনে আত্মহত্যা করবেন তিনি।

অভিযুক্ত অধ্যাপক এএমইউয়ের সংস্কৃতের অধ্যাপক, ২৭ বছর ধরে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত। তিনি প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ ও পরে টেক্সট মেসেজ করে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। স্ত্রীকে বাড়ি থেকেও বার করে দিয়েছেন তিনি। বিচারের আশায় দোরে দোরে ঘুরছেন ইয়াসমিন। অবশেষে শুক্রবার সন্ধ্যেয় পুলিশের সাহায্যে নিজের বাড়িতে ঢুকতে পেরেছেন তিনি। ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে সুবিচার না পেলে ভিসি তারিক মনসুরের বাড়ির সামনে ৩ ছেলেমেয়েকে নিয়ে তিনি আত্মহত্যা করবেন।

ওই অধ্যাপকও স্বীকার করে নিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টে নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, শুধু হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে নয়, ইয়াসমিনকে তিনি শরিয়া মেনে ২ জন সাক্ষীর সামনে মৌখিকভাবেও তালাক দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০ বছর ধরে ইয়াসমিন হেনস্থা করে চলেছেন তাঁকে। বিয়ের আগে একাধিক সত্য গোপন করেছেন বলেছিলেন, তিনি গ্র্যাজুয়েট কিন্তু বিয়ের পর দেখেছেন, তা মিথ্যে কথা।

যদিও ইয়াসমিনের দাবি, তিনি শুধু স্নাতক নন, এএমইউ থেকে স্নাতকোত্তর ও বিএড করেছেন তিনি।

পুলিশ বলেছে, ইয়াসমিন এখনও স্বামীর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি, তিনি শুধু কাউন্সেলিং চাইছেন। এই পরিস্থিতিতে পুলিশের বেশি কিছু করার নেই। তবে স্বামী স্ত্রীকে ডেকে পাঠিয়েছে তারা

বৈধ পাসপোর্ট নিয়ে বোল্লাকালি মেলায় বাংলাদেশী পকেটমার গ্রেপ্তার বালুরঘাটে

bollakali-mala-bangladeshi-poketmar (1)বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট করে এসে বোল্লাকালি মেলায় পকেট কাটতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ল এক ব্যক্তি। ধৃত ব্যক্তির নাম মনিউর ইসলাম। বাড়ি বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলায়। এছাড়াও এদিন ভিন জেলা আগত একাধিক মহিলা, পুরুষ সহ ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের একই অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, গত ১০ই নভেম্বর, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বোল্লাকালি মেলায় কেপমারির অভিযোগে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকী বাংলাদেশ থেকে বৈধ পাসপোর্ট নিয়ে এদেশে ঢুকে বোল্লাকালির মেলায় কেপমারি করতে গিয়ে একজন ধরা পড়েছে। এই ঘটনা পুলিশ মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বালুরঘাটের ডেপুটি পুলিশ সুপার সৌম্যজিৎ বড়ুয়া বলেন, এদিন পকেট কাটতে গিয়ে এক বাংলাদেশীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়। সে এদেশের পাসপোর্ট করে এসেছে। তার কোনও সঙ্গী রয়েছে কি না বা তাদের বড় কোনও দল আছে কি না তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিন ১৫ জনকে কেপমারি করতে গিয়ে পুলিশ হাতেনাতে ধরে ফেলেছে। এলাকায় যথেষ্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে

কেরলের ১০০ তরুণ আইসিসে যোগ দিয়েছেন, ‌এমনটাই দাবি করল সেই রাজ্যের পুলিশ

এক বছরে কেরল থেকে ২১জন তরুণ নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এর জেরে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তদন্তে দেখা যায়, কেরলের কাসরগড় ও পালাক্কাড জেলা থেকে পালানো তরুণেরা যোগ দিয়েছে জঙ্গি সংগঠন আইসিসে।
সম্প্রতি এনিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে কমপক্ষে ১০০ তরুণের আইসিসে যোগদানের বিষয়টি নজরে আসে পুলিশের। তাঁদের দাবির সমর্থনে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামের মেসেজ সহ ৩০০ ভয়েস ক্লিপও ‌জোগাড় করেছে পুলিশ।
কিছুদিন আগেই এক মহিলার একটি অডিও ক্লিপ হাতে এসেছে কেরল পুলিশের। সেখানে ওই মহিলা তাঁর স্বামীর মৃত্যুর খবর দিচ্ছে অন্য এক আত্মীয়কে। অডিও ক্লিপে ওই মহিলা বলছেন তাঁর স্বামী জিহাদ করতে গিয়ে মারা গেছে। শুধু তাই নয়, তাঁর দুই সন্তান এখনও সিরিয়ায় রয়েছে বলে ওই মহিলা জানিয়েছেন।
পুলিশের হাতে এসেছে কায়ুম নামে আরও এক ‌যুবকের অডিও ক্লিপ। তার কথার সূত্র ধরে আরও ৩ ‌যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, কেরলের ওই তিন ‌যুবক সিরিয়ায় গিয়েছিল। সেখানে তারা জঙ্গি প্রশিক্ষণও নিয়েছে। পুলিশ তাদের সিরিয়ায় ‌যাওয়ার টিকিট, ভিসার ফোটোকপি উদ্ধার করেছে।

বাংলাদেশি জঙ্গিরা ডেরা বেঁধেছে উত্তর ২৪ পরগনায়, তথ্য চাইল এনআইএ

এরাজ্যে বসবাসকারী সন্দেহভাজন এক বাংলাদেশি যুবক ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)-র গোয়েন্দাদের নজরে। তার সন্দেহজনক গতিবিধি চিন্তা বাড়িয়েছে তাঁদের। বাংলাদেশের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে খবর। ওপার বাংলায় জেহাদি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু সদস্যকে ওই সন্দেহভাজন এখানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে রাজ্য পুলিশের কাছে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। রিপোর্ট হাতে আসার পরই এই বিষয়ে এগতে চাইছে এনআইএ।

সীমান্ত পেরিয়ে কারা কারা এদেশে ঢুকেছে বা ঢোকার চেষ্টা করছে, তা নিয়ে বাড়তি নজরদারি চালায় এনআইএ। এক্ষেত্রে উত্তর ২৪ পরগনা ও মালদহ সীমান্তই অফিসারদের কাছে মূল মাথা ব্যথার কারণ। কারণ শুধুমাত্র জাল নোট নয়, নোট পাচারকারীদের হাত ধরে ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশিরাও। যারা বছরের পর বছর থেকেও যাচ্ছে এদেশে। যাদের কাজকর্ম রীতিমতো সন্দেহজনক ঠেকেছে এনআইএ-এর কাছে। এই কারণেই সীমান্তের ওপার থেকে আসা ফোন কলগুলির উপর বিশেষ নজর রয়েছে গোয়েন্দাদের। জেহাদি কার্যকলাপে যুক্ত ব্যক্তিদের ফোনে আঁড়ি পেতেই সীমান্তে এরাজ্যে তাদের কার্যকলাপের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। সেই সূত্র মারফতই সন্দেহভাজন ওই বাংলাদেশির বিষয়ে তথ্য এসেছে এনআইএর কাছে। পরে জাল নোট পাচারের সঙ্গে জড়িত দু’জনকে গ্রেপ্তারের পর তার বিষয়ে আরও কিছু তথ্য আসে তদন্তকারীদের কাছে।

প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা জানতে পারছেন, ওই যুবক বাংলাদেশ থেকে আসার পর তার কাছে সীমান্ত পেরিয়ে একাধিক অপরিচিত মুখের আসা-যাওয়া শুরু হয়। কয়েকদিন এলাকায় থাকার পর ওই যুবকদের আর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। জানা যাচ্ছে, সন্দেহভাজন ওই যুবক উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে রয়েছে। তাকে এখানে আসতে এবং থাকতে সাহায্য করছে এই এলাকারই এক যুবক। কিন্তু তার সঙ্গে ওই বাংলাদেশির সম্পর্ক কী, তা স্পষ্ট নয়। এমনকী ওই যুবক বাংলাদেশ থেকে আসার পর ভোটার আইডি কার্ড, পাসপোর্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরি করে ফেলেছে। যার ফলে গোয়েন্দাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মাস খানেক আগে গোটা বিষয়টি তাদের নজরে আসে। অল্প কিছুদিন এরাজ্যে আসার পরই সে কী করে বিভিন্ন নথি জোগাড় করল, তা খুঁজে দেখতে চাইছেন এনআইএর অফিসাররা। প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, ওই যুবক বড় কোনও পেশার সঙ্গে জড়িত নয়। অথচ প্রায়ই অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে। এমনকী ঘন ঘন বাংলাদেশেও যাচ্ছে। তার এই গতিবিধি রীতিমতো সন্দেহজনক মনে হয়েছে আধিকারিকদের। এনআইএ-এর কাছে খবর, ওই যুবক অস্ত্র কেনাবেচায় জড়িত। বাংলাদেশ থেকে যে সমস্ত আগ্নেয়াস্ত্র এরাজ্যে ঢুকছে, তা তার মাধ্যমেই আসছে। যা তার হাতঘুরে অন্য জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে। এই বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করার কাজ চলছে। মনে করা হচ্ছে, ওই যুবক সীমান্তের ওপারে কোনও নাশকতার ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। ওই যুবক বাংলাদেশের যে সমস্ত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তারা একাধিক নাশকতার ঘটনায় জড়িত বলে শোনা যাচ্ছে। এমনকী কয়েকজন আবার জেহাদি সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত। যার ফলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চিন্তা আরও বেড়েছে। বিশেষত আইএসের বাংলাভাষী ইউনিটের সদস্যের উপস্থিতি এরাজ্যে আগে পাওয়া গিয়েছে। এই সংগঠনের সঙ্গে ওই যুবক কোনওভাবে জড়িত কি না, তা জানা প্রয়োজন। যার কাজ শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। এনআইএ চাইছে, রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে কিছু তথ্য পেতে। যাতে তাদের তদন্তে এগতে সুবিধা হয়। পাশাপাশি কার মাধ্যমে এই যুবক সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর ২৪ পরগনায় এল তা জেলা পুলিশের সাহায্য নিয়ে চিহ্নিত করতে চাইছে এনআইএ। এমনকী ওই যুবক এখানকার বাসিন্দা হিসাবে যে কাগজপত্র জোগাড় করেছে, তা বৈধ কি না, সেই বিষয়েও এই রাজ্যের পুলিশের কাছ থেকে নিশ্চিত হতে চাইছেন এনআইএর আধিকারিকরা।

ফেসবুকে ধর্ম-অবমাননার অজুহাতে রংপুরের হিন্দুরা আক্রান্ত, বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

rangpur-1রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়ায় টিটু চন্দ্র নামে এক ব্যক্তির ফেসবুক আইডি থেকে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দেয়ার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ মুসলিমরা ওই এলাকার কয়েকটি হিন্দু বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।

জানা যায়, গত ১০ই নভেম্বর, শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা এক জোট হয়ে ইউনিয়নের পাগলাপীর বাজারে মানববন্ধন শুরু করেন। ওই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে আশপাশের কয়েক হাজার মুসলিম ওই এলাকায় জড়ো হন। একপর্যাrangpur-2য়ে বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা ঠাকুরপাড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকে এবং সেখানের তিনটি হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ঘটায়। এ ঘটনায় পুলিশ তাদের বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় সংঘর্ষ। rangpur-3পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশসহ অন্তত ১০জন আহত হন। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনাস্থল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-এ) সাইফুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।

কেরলে খুনের ঘটনায় হিলিতে গ্রেপ্তার বাংলাদেশী সুপারি কিলার মহম্মদ মামুন

কেরলে যুবক খুনের ঘটনায় হিলিতে পুলিশের হাতে ধরা পড়ল বাংলাদেশী সুপারি কিলার। অনুপ্রবেশকারী হিসাবে গ্রেপ্তার হলেও ইন্টারনেট তথ্যে কেরল পুলিশ চিনতে সক্ষম হয় সেই সুপারি কিলারের নাম। বালুরঘাট জেলা সংশোধনাগারে সেই সুপারি কিলারকে জিঞ্জাসাবাদ করতেই বৃহস্পতিবার দুজনের একটি টিম আসে বালুরঘাটে। শুক্রবার সকাল থেকে জেলা সংশোধনাগারে শুরু হয় ওই সুপারি কিলারকে জিজ্ঞাসাবাদ। উঠে আসে একাধিক তথ্য। বাংলাদেশী ওই কিলার সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে কেরল পুলিশের আরও একটি বিশেষ টিম বালুরঘাটে আসছে বলে সূত্রের খরব। পুলিশ জানায়, ধৃত ওই সুপারি কিলারের নাম মহঃ মামুন। বাংলাদেশের চাপাই নবাবগঞ্জ জেলার গোমঠাপুর থানার তেতুলতলা গ্রামের বাসিন্দা। অক্টোবর মাসের মাঝামাঝিতে অবৈধভাবে হিলি সীমান্ত পার হয়ে কেরলে যায় বাংলাদেশী ওই যুবক। সেখানে বেশকিছু দিন থাকার পরে ইরটুপিট্টা থানা এলাকার বাসিন্দা এক যুবককে নৃশংস ভাবে খুন করে বাংলাদেশী এই সুপারি কিলার বলে অভিযোগ। এরপরেই খুনের ঘটনা নিয়ে তদন্তে নামে কেরলের পুলিশ। এদিকে বাংলাদেশী ওই সুপারি কিলার নভেম্বরের ১ তারিখে ফের হিলি দিয়ে বাংলাদেশে যাবার গোপন ভাবে চেষ্টা করছিল। যে সময় পুলিশের জালে ধরা পড়ে যায় সে। হিলি থানার পুলিশ অনুপ্রবেশকারী হিসাবে তাকে আদালতে পাঠিয়ে দিলেও ওই খুনের ঘটনার কোন তথ্যই তারা জানতে পারেনি। এদিকে ইন্টারনেটে হিলি পুলিশের আপলোড করা ওই বাংলাদেশী যুবকের ছবি ও তার তথ্য নজরে আসে কেরল পুলিশের। বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশের সাথে আলোচনা করেই বৃহস্পতিবার একটি টিম বালুরঘাটে এসে পৌঁছায়। যার পরিপ্রিক্ষেতে শুক্রবার সকাল থেকে অনুপ্রবেশকারী হিসাবে থাকা বাংলাদেশী ওই সুপারি কিলারকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে কেরল পুলিশ। সুপারি দিয়েই কেরলের ওই যুবককে যে খুন করা হয়েছিল সে সম্পর্কেও বেশকিছু তথ্য হাতে পেয়েছে কেরল পুলিশ। যদিও এই সম্পর্কে তারা কিছু সংবাদমাধ্যমকে বলেন নি।

হিলি থানার ওসি সঞ্জয় মুখার্জী জানিয়েছেন, বাংলাদেশী হিসাবে ওই যুবক ধরা পড়লেও তার আসল ঘটনা কেরল পুলিশের কাছ থেকে জানা সম্ভব হয়েছে । কেরলের একটি খুনের ঘটনায় জড়িত ওই যুবককে এদিন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে কেরল পুলিশ ।

হিন্দুদের হুমকির ঘটনা বাংলাদেশের পিরোজপুর সদর উপজেলায়, বহু হিন্দু এলাকাছাড়া

পিরোজপুর সদর উপজেলার সিকদার মল্লিক ইউনিয়নের দক্ষিণ সিকদার মল্লিক গ্রামের বাসিন্দা দেবাশীষ মাঝি ৪ জুন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের পর থেকে ঘরছাড়া। এলাকায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের লোকজন তাঁকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অজ্ঞাত স্থানে বসে মুখোমুখি আলাপচারিতায় দেবাশীষবাবু বলেন, ‘ভোটের পর এক দিনও বাড়িতে ঘুমাইনি। মা বলছে দেশ ছেড়ে পালিয়ে বেঁচে থাক। আসলেই কি আমরা এই দেশে থাকতে পারব না?’

একই প্রশ্ন করেছেন ওই ইউনিয়নের কৃষ্ণেন্দু হালদার, সন্তোষ বৈরাগী, নয়ন মাঝি, রিপন মণ্ডলসহ আরও অনেকে। এই ইউনিয়নের হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে বলছেন, ৪ জুন সর্বশেষ দফা ইউপি নির্বাচন আতঙ্ক হয়ে এসেছে হিন্দু-অধ্যুষিত সাতটি গ্রামে। নির্বাচনের পর থেকে গত তিন সপ্তাহে অর্ধশত হিন্দু ব্যক্তি হুমকি ও মারধরের শিকার হয়েছেন। পুরুষদের মধ্যে অনেকেই ভয়ে এলাকাছাড়া।

সিকদার মল্লিক ইউনিয়নের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পান সদ্য ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য হওয়া শহীদুল ইসলাম হাওলাদার। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান সিকদার ছিলেন বিদ্রোহী প্রার্থী। হিন্দুরা জানান, নির্বাচনে শহীদুল চেয়ারম্যান হলেও হিন্দু-অধ্যুষিত ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কামরুজ্জামান জয়ী হন। এরপর থেকে এই চার ওয়ার্ডের সিকদার মল্লিক, দক্ষিণ সিকদার মল্লিক, নন্দীপাড়া, উত্তর গাবতলা, দক্ষিণ গাবতলা, জুজখোলা ও পূর্ব জুজখোলা গ্রামে হিন্দুদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা ও ইউনিয়নের হিন্দু নেতারা বলছেন, শহীদুলের বাবা রফিকুল ইসলাম ওরফে রুনুও দুবার এই ইউপির চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচপাড়া বাজারের কালীমন্দিরের জায়গা দখলসহ হিন্দু ব্যক্তিদের নির্যাতনের অভিযোগ আছে। এসব কারণেই হিন্দুদের একটি বড় অংশ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কামরুজ্জামানকে ভোট দেন। এতেই ক্ষুব্ধ হন শহীদুল। তবে তিনি এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেছেন।

পিরোজপুর জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘সিকদার মল্লিক ইউনিয়নের হিন্দু লোকজন গত তিন সপ্তাহে হামলা, হুমকি, মারধরের ১০৯টি ঘটনার কথা আমাকে জানিয়েছে। আমি পুলিশ প্রশাসনকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছি।’

পরাজিত প্রার্থী কামরুজ্জামান সিকদার বলেন, ‘১, ২, ৩ ও ৪—এই চারটি ওয়ার্ডই হিন্দু-অধ্যুষিত। এর প্রত্যেকটায় আমি জয়ী হয়েছি। কিন্তু বাকি পাঁচটি ইউনিয়নে শহীদুল জয়ী হন। হিন্দুরা কেন আমাকে ভোট দিল, সে কারণেই নির্বাচনের দিন থেকেই হিন্দুদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

এলাকায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ৪ জুন নির্বাচনের দিন হামলার শিকার হন সিকদার মল্লিক গ্রামের সন্তোষ বৈরাগী।সন্ধ্যায় গাবতলা স্কুলের কাছেই চিত্ত বড়াল, রতন খাঁ, সচীন শিকদার, সুকুমার সিকদার ও প্রবীণ মণ্ডলকে মারধর করা হয়। এ ছাড়া সিকদার মল্লিক গ্রামের অমূল্য মিস্ত্রির বাড়িতেও হামলা হয়। এসব ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ওই রাতেই এলাকার কয়েকটি হিন্দু পরিবার বাড়ি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বাগান ও মাছের ঘেরে আশ্রয় নেয়।

হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন জানান, নির্বাচনের পরদিন ৫ জুন দক্ষিণ গাবতলা গ্রামের আকুল মিস্ত্রি, কুমুদ মাঝি, সোনা মিস্ত্রি ও অসীম মাঝিকে হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৬ জুন ভবতোষ মণ্ডল, ৭ জুন নির্ঝর মণ্ডলকে হুমকি দেওয়া হয়। ২০ জুন জুজখোলা মিরুয়া গ্রামের হ্যাপি ঘরামির কাপড়ের দোকান দখল করে ক্লাব করতে যায় চেয়ারম্যানের লোকজন। বাধা দিলে হ্যাপি ও তাঁর স্বামী বিমল ঘরামিকে মারধর করা হয়।

পিরোজপুর সদর থানার ওসি এস এম মাসুদ উজ জামান গতকাল বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’ নির্যাতন ও হুমকির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে শহীদুল ইসলাম এসব ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, ‘এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।’

 

বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার পলাতক আসামি আল আমিন ভারতে আছে বলে তার বাবা মনে করেন

biswajit-hotta-mamla-bangladeshবাংলাদেশে বহুল আলোচিত বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের একজন মাদারীপুরের আল-আমিন শেখ। পলাতক এই আসামি এখন কলকাতায় অবস্থান করেছে বলে জানা গেছে। মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামের আক্কাস আলী শেখের ছেলে আল-আমিন।

সাতবাড়িয়া গ্রামের পাশের গ্রাম হাসানকান্দির এক বাসিন্দা সম্প্রতি কলকাতায় ঘুরতে গিয়ে আল-আমিনের সঙ্গে দেখা হয়। এরপর গ্রামে ফিরে এসে তিনি এলাকাবাসীকে বিষয়টি জানান।

আল-আমিনের ব্যাপারে তার বাবা আক্কাস আলী বলেন, ‘আমার ছেলে কোথায় আছে, তা জানি না। তবে তার সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছে। মোবাইলে যে নম্বর দিয়ে কথা বলে তা বিদেশি নম্বর। তবে তা কোন দেশের নম্বর তা জানি না।’

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আল-আমিনের পরিবার খুবই দরিদ্র। এলাকায় সে মেধাবী হিসেবেই পরিচিত ছিল। এলাকার লোকজন তাকে তেমন একটা চেনেও না। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের পর আল-আমিন একবার গ্রামের বাড়িতে আসে। এরপর তাকে আর দেখা যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানায়, আল-আমিন কলকাতায় আছে। সে কলকাতার সিটি সেন্টার নামে একটি শপিং মলে চাকরি করে।

সাতবাড়িয়া এলাকার মেম্বার শাখাওয়াত হোসেন জানান, আল-আমিন বিদেশে পালিয়ে গেছে। কিন্তু কোন দেশে আছে তা কেউ নিশ্চিত জানে না।

মাদারীপুর জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার দেব জানান, যে কোনও আসামির সাজা হওয়ার পর সাজা ওয়ারেন্ট সংশ্লিষ্ট থানায় আসে। পুলিশের পক্ষ থেকে তা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়। আল-আমিন শেখের বিষয়টি মাদারীপুর জেলা পুলিশ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। তার অবস্থানের ব্যাপারে পুলিশের কাছে কোনও তথ্য নেই। তবে তাকে জেলার মধ্যে যেখানেই পাওয়া যাবে গ্রেফতার করা হবে।

কোটি টাকার হেরোইন সমেত ২ কারবারিকে গ্রেপ্তার করল সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ

ক্রেতা সেজে এক কোটি টাকার হেরোইন সমেত দু’জনকে গ্রেপ্তার করল সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ। বুধবার রাতে বাসুদেবপুর বাসস্ট্যান্ড চত্বর থেকে ওই হেরোইন কারবারিদের পাকড়াও করা হয়। ধৃতদের নাম মহম্মদ মজিবুর রহমান ও আনিকুল ইসলাম ওরফে সাদিকুল ইসলাম। দু’জনেরই বাড়ি লালগোলা থানা এলাকায়। ধৃতদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারচক্রের যোগাযোগ আছে বলেই পুলিশের সন্দেহ। বৃহস্পতিবার জেলার বিশেষ আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতদের সাতদিন পুলিশ হেপাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ সুপার মুকেশ কুমার বলেন, ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের সঙ্গে আর কারা জড়িত আছে তা জানার চেষ্টা চলছে।

বুধবার বিকাল থেকে বাসুদেবপুর বাসস্ট্যান্ড চত্বরে জাল বিছিয়ে রেখেছিল পুলিশ। গত ৮ই নভেম্বর, বুধবার রাত সাড়ে ৭টা নাগাদ বাস থেকে নামতেই মজিবুর ও আনিকুলকে ধরা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন সামশেরগঞ্জ থানার ওসি অমিত ভকত। থানার এক অফিসার বলেন, কয়েকদিন আগে গোপনভাবে ধৃতদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সেই সময় হেরোইন কেনার জন্য ধৃতদের ৩০হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। তখন থেকেই তাদের উপর নজর রাখা হচ্ছিল। পূর্ব কথা মতো হেরোইন কারবারিরা দু’টি বাজারের ব্যাগ নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে আসে। সেখানে মোতায়েন সাদা পোশাকের এক পুলিশ অফিসারের কাছে যায় ওই কারবারিরা। তারা হেরোইনের নমুনা দেখিয়ে বাকি টাকা দাবি করে। তখন তাদের ঘিরে ধরেন অন্য পুলিশ অফিসাররা। বেগতিক বুঝে কারবারিরা পালানোর চেষ্টা করে। পিছু ধাওয়া করে তাদের পাকড়াও করা হয়। ধৃতদের কাছে থাকা ব্যাগ থেকে ১কেজি ৩৫০গ্রাম হেরোইন উদ্ধার হয়েছে। যার বাজার মূল্য ১কোটি টাকা। এছাড়া, ধৃতদের কাছ থেকে দু’টি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৮হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লালগোলা থানার নবপল্লিতে মজিবুর এবং পন্ডিতপুরে আনিকুলের বাড়ি। এরা দীর্ঘদিন ধরেই হেরোইনের কারবারের সঙ্গে জড়িত। জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, বহুদিন ধরেই ওদের ধরার চেষ্টা চলছিল। ধৃতদের নেটওয়ার্ক দার্জিলিং, কলকাতা, মালদহ, বাংলাদেশ প্রভৃতি এলাকায় ছড়ানো রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।