নন্দকুমারে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তিতে কালী মাখালো দুষ্কৃতীরা, চাঞ্চল্য এলাকায়

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত নন্দকুমারের কল্যাণচক হাই স্কুল মোড়ে স্বামী বিবেকানন্দের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তিতে কালি ঘষে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। জানা গিয়েছে, গত ১৮ই এপ্রিল রাতের অন্ধকারে কে বা কারা স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তিতে কালী মাখিয়ে দেয়। এদিন সকালে এই ঘটনার খবর জানাজানি হওয়ার পর পুলিস ও প্রশাসনের কর্তারাও নড়েচড়ে বসেন। গতকাল ১৯শে এপ্রিল, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিডিও মহম্মদ আবু তৈয়বের উদ্যোগে কালি তুলে নতুন করে মূর্তি রং করা হয়। তবে কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানার জন্য পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে।
বিডিও মহম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, খবর পাওয়ার পরই দ্রুত স্বামীজির মূর্তিতে লেগে থাকা কালি তুলে নতুন রং করা হয়েছে। এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খোঁজে পুলিস তল্লাশি শুরু করেছে।

Advertisements

রাজ্যের মাদ্রাসাগুলি সংখ্যালঘু তকমা পাওয়ার যোগ্য কিনা -খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্ট

রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক নিয়োগের অধিকার কার হাতে থাকবে –মাদ্রাসা পরিচালন সমিতি নাকি মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন –সুপ্রিম কোর্টে এই প্রশ্নের মীমাংসা হল না বৃহস্পতিবারেও৷ এই প্রশ্নের মীমাংসার আগে শীর্ষ আদালত বিচার করে দেখবে , রাজ্যের মাদ্রাসাগুলি সংখ্যালঘু তকমা পাওয়ার যোগ্য কিনা৷ আগামী মঙ্গলবার থেকে এই প্রশ্নের উত্তর -সন্ধানে শুরু হবে শীর্ষ আদালতে শুনানি৷ গতকাল ১৯শে এপ্রিল, বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছে বিচারপতি অরুণ মিশ্র এবং বিচারপতি উদয় উমেশ ললিতের বেঞ্চ৷ মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের অধিকার নিয়ে মামলার শুনানিতে রাজ্যের একটি মাদ্রাসার তরফে জানানো হয় , ২০০৭ সালে রাজ্যের সব ক’টি মাদ্রাসাকে ‘সংখ্যালঘু’ শ্রেণিভুক্ত বিদ্যালয়ের তকমা দিয়ে বিজ্ঞন্তি প্রকাশ করেছিল তত্কালীন রাজ্য সরকার৷ সেই বিজ্ঞন্তি চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে কয়েকটি মাদ্রাসা৷ রাজ্যের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের অধিকার মাদ্রাসা পরিচালন সমিতির হাতে না দিয়ে পরে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের হাতে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়৷ কাঁথি রহমানিয়া  মাদ্রাসার তরফে আইনজীবী আবু সোহেল আবার দাবি করেন , সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের অধিকার রাজ্য সরকারের নেই৷ এর পরেই বিচারপতি অরুণ মিশ্র এবং বিচারপতি উদয় উমেশ ললিত স্থির করেন , রাজ্যের মাদ্রাসাগুলি ‘সংখ্যালঘু’ মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য কিনা , তা আগে স্থির করবে আদালত৷ ৷ এর গত গত এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছিলো যে রাজ্যের মাদ্রাসাগুলোতে কি পড়ানো হয়। এমনকি বিচাপতিরা এই মন্তনব্য করেছিল যে রাজ্য সরকার যেহেতু টাকা দেয়, তাই শিক্ষক নিয়োগের অধিকারও তাদের থাকা উচিত।

দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে রাধা-কৃষ্ণের মূর্তিতে ভাঙচুর চালালো দুষ্কৃতীরা

সম্প্রীতির বাংলার মুকুটে নতুন পালক যোগ হলো। গত ১৭ই এপ্রিল,মঙ্গলবার রাতে কিছু দুষ্কৃতী দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত কুমারগঞ্জের জাকিরপুরের  হাটখোলায়। স্থানীয়রা মূর্তি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পায় পরেরদিন অর্থাৎ ১৮ই এপ্রিল, বুধবার সকালে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে ওই গ্রামে গত ১লা বৈশাখ থেকে হরিনাম  চলছে। ঘটনার আগেরদিন রাতে সবাই যে যার বাড়ি চলে যাওয়াতে রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীরা কয়েকটি মূর্তিতে ভাঙচুর চালায়। তার পূজার ঘট ও ঠাকুরের গলায় থাকা ফুলের মালা দূরে ছিঁড়ে ফেলে দেয় এবং পূজার অন্যান্য সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরেরদিন সকালে স্থানীয়রা এই ঘটনা দেখতে পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে।  খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কুমারগঞ্জ থানার ওসি পার্থ ঝা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে পুলিশ স্থানীয় হিন্দুদের বাধ্য করে ভাঙা মূর্তি বিসর্জন দিতে। এলাকার হিন্দু জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ থাকায় হাটখোলা এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।

ত্রিপুরার ধর্মনগরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৫ মুসলিম যুবক

tripuraগত ১৫ই এপ্রিল, রবিবার সন্ধ্যায় ত্রিপুরার ধর্মনগরের আকন-বাকোন এলাকায় ৫ মুসলিম যুবক মিলে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ করলো। কিন্তু বাজারি মিডিয়ার চক্রান্তে ভারতের সাধারণ জনগণ এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর জানতে পারলো না। ঐদিন সন্ধ্যায় ১৬ বছরের ওই নাবালিকা টিউশন পড়া শেষ করে বাড়ি ফিরছিলো। সেই সময় ওই পাঁচ মুসলিম যুবক মেয়েটিকে অপহরণ করে কিছু দূরের পরিত্যক্ত জেল কোয়ার্টার-এর ভিতরে নিয়ে যায় এবং তারপর তাকে সবাই মিলে ধর্ষণ করে।  সকালে স্থানীয়রা ঘটনার খবর পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে এবং মেয়েটিকে হাসপাতালে পাঠায়। পরে ধর্মনগরের মহিলা থানার পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেস দায়ের করে যার নম্বর-৮/২০১৮। পুলিশ অভিযুক্ত মুসলিম দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৬(A), ৫১১, ৩৭৬, ৩৪১ ধারায় মামলা রুজু করেছে। সেই পাঁচ অভিযুক্ত হলো মহম্মদ মুস্তাফা আহমেদ, অমর হোসেন, রিয়াজ উদ্দিন, মহম্মদ কলিম উদ্দিন এবং মনা  মিয়াঁ। এছাড়াও পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে ৩টি চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে।

ব্যারাকপুর মসজিদ মোড়ে বোনের সম্মান বাঁচাতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত দাদা

barakpur-mosjidmor-boner-sommnaবোনকে দুষ্কৃতীদের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হল এক যুবক। গত ১০ই নভেম্বর,  শুক্রবার রাত ১০:৩০ নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে ব্যারাকপুরের মসজিদ মোড়ের কাছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী টিউশন শেষ করে দাদার সঙ্গে সাইকেলে বাড়ি ফিরছিল এক কিশোরী। ঠিক সেই সময় বাইক নিয়ে তিন দুষ্কৃতী তাদের পিছু নেয়। ওই কিশোরীকে নানা রকমের কটূক্তি করতে থাকে দুষ্কৃতীরা। সেই সময় বোনের সম্মান বাঁচাতে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় দাদা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। মত্ত অবস্থায় থাকা দুষ্কৃতীরা কিশোরীর দাদার উপরে চড়াও হয়ে তাকে শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করে। এমনকি কিশোরীকেও মারধর করা হয়। তাতে ওই কিশোরীর দাদা আহত হয়। কিশোরীর চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আসতে দেখে বাইক রেখেই ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় ওই দুষ্কৃতীর দল। পরে আহত কিশোরী ও তার দাদাকে স্থানীয় বিএন বসু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাদের ছেড়ে দেয় চিকিৎসকরা।

পুলিশ ওই দুষ্কৃতীদের বাইক আটক করেছে। পাশাপাশি ওই দুষ্কৃতীদের ধরতে গোটা এলাকা জুড়ে শুক্রবার গভীর রাত থেকে তল্লাশি অভিযায় শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় গোটা ব্যারাকপুর জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি তাদের আসতে দেখেই চম্পট দেয় ওই দুষ্কৃতীর দল। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার প্রতিও ক্ষোভ উগরে দেয় তারা। আক্রান্ত কিশোরীর বয়ান অনুযায়ী ওই দুষ্কৃতীদের স্কেচ তৈরি করছে পুলিশ। পুরো ঘটনাটির তদন্ত করছে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ।

সুপ্রিম কোর্ট নিষিদ্ধ করার পরও স্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে তালাক দিলেন অধ্যাপক স্বামী

শীর্ষ আদালতের রায়ে তিন তালাক বেআইনি হয়েছে দু’মাস হয়ে গেল। কিন্তু বাস্তবে এখনও বহাল তবিয়তে বর্তমান তিন তালাকের অভিশাপ। অভিযোগ, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খালিদ বিন ইউসুফ খান হোয়াটসঅ্যাপে তালাক দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিন খালিদকে।

একেবারে ভেঙে পড়ে ৩ সন্তানের মা ইয়াসমিন বলেছেন, যদি বিচার না পান তবে সন্তানদের নিয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের বাসভবনের সামনে আত্মহত্যা করবেন তিনি।

অভিযুক্ত অধ্যাপক এএমইউয়ের সংস্কৃতের অধ্যাপক, ২৭ বছর ধরে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত। তিনি প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ ও পরে টেক্সট মেসেজ করে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। স্ত্রীকে বাড়ি থেকেও বার করে দিয়েছেন তিনি। বিচারের আশায় দোরে দোরে ঘুরছেন ইয়াসমিন। অবশেষে শুক্রবার সন্ধ্যেয় পুলিশের সাহায্যে নিজের বাড়িতে ঢুকতে পেরেছেন তিনি। ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে সুবিচার না পেলে ভিসি তারিক মনসুরের বাড়ির সামনে ৩ ছেলেমেয়েকে নিয়ে তিনি আত্মহত্যা করবেন।

ওই অধ্যাপকও স্বীকার করে নিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টে নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, শুধু হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে নয়, ইয়াসমিনকে তিনি শরিয়া মেনে ২ জন সাক্ষীর সামনে মৌখিকভাবেও তালাক দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০ বছর ধরে ইয়াসমিন হেনস্থা করে চলেছেন তাঁকে। বিয়ের আগে একাধিক সত্য গোপন করেছেন বলেছিলেন, তিনি গ্র্যাজুয়েট কিন্তু বিয়ের পর দেখেছেন, তা মিথ্যে কথা।

যদিও ইয়াসমিনের দাবি, তিনি শুধু স্নাতক নন, এএমইউ থেকে স্নাতকোত্তর ও বিএড করেছেন তিনি।

পুলিশ বলেছে, ইয়াসমিন এখনও স্বামীর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি, তিনি শুধু কাউন্সেলিং চাইছেন। এই পরিস্থিতিতে পুলিশের বেশি কিছু করার নেই। তবে স্বামী স্ত্রীকে ডেকে পাঠিয়েছে তারা

বৈধ পাসপোর্ট নিয়ে বোল্লাকালি মেলায় বাংলাদেশী পকেটমার গ্রেপ্তার বালুরঘাটে

bollakali-mala-bangladeshi-poketmar (1)বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট করে এসে বোল্লাকালি মেলায় পকেট কাটতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ল এক ব্যক্তি। ধৃত ব্যক্তির নাম মনিউর ইসলাম। বাড়ি বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলায়। এছাড়াও এদিন ভিন জেলা আগত একাধিক মহিলা, পুরুষ সহ ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের একই অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, গত ১০ই নভেম্বর, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বোল্লাকালি মেলায় কেপমারির অভিযোগে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকী বাংলাদেশ থেকে বৈধ পাসপোর্ট নিয়ে এদেশে ঢুকে বোল্লাকালির মেলায় কেপমারি করতে গিয়ে একজন ধরা পড়েছে। এই ঘটনা পুলিশ মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বালুরঘাটের ডেপুটি পুলিশ সুপার সৌম্যজিৎ বড়ুয়া বলেন, এদিন পকেট কাটতে গিয়ে এক বাংলাদেশীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়। সে এদেশের পাসপোর্ট করে এসেছে। তার কোনও সঙ্গী রয়েছে কি না বা তাদের বড় কোনও দল আছে কি না তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিন ১৫ জনকে কেপমারি করতে গিয়ে পুলিশ হাতেনাতে ধরে ফেলেছে। এলাকায় যথেষ্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে

কেরলের ১০০ তরুণ আইসিসে যোগ দিয়েছেন, ‌এমনটাই দাবি করল সেই রাজ্যের পুলিশ

এক বছরে কেরল থেকে ২১জন তরুণ নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এর জেরে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তদন্তে দেখা যায়, কেরলের কাসরগড় ও পালাক্কাড জেলা থেকে পালানো তরুণেরা যোগ দিয়েছে জঙ্গি সংগঠন আইসিসে।
সম্প্রতি এনিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে কমপক্ষে ১০০ তরুণের আইসিসে যোগদানের বিষয়টি নজরে আসে পুলিশের। তাঁদের দাবির সমর্থনে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামের মেসেজ সহ ৩০০ ভয়েস ক্লিপও ‌জোগাড় করেছে পুলিশ।
কিছুদিন আগেই এক মহিলার একটি অডিও ক্লিপ হাতে এসেছে কেরল পুলিশের। সেখানে ওই মহিলা তাঁর স্বামীর মৃত্যুর খবর দিচ্ছে অন্য এক আত্মীয়কে। অডিও ক্লিপে ওই মহিলা বলছেন তাঁর স্বামী জিহাদ করতে গিয়ে মারা গেছে। শুধু তাই নয়, তাঁর দুই সন্তান এখনও সিরিয়ায় রয়েছে বলে ওই মহিলা জানিয়েছেন।
পুলিশের হাতে এসেছে কায়ুম নামে আরও এক ‌যুবকের অডিও ক্লিপ। তার কথার সূত্র ধরে আরও ৩ ‌যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, কেরলের ওই তিন ‌যুবক সিরিয়ায় গিয়েছিল। সেখানে তারা জঙ্গি প্রশিক্ষণও নিয়েছে। পুলিশ তাদের সিরিয়ায় ‌যাওয়ার টিকিট, ভিসার ফোটোকপি উদ্ধার করেছে।

বাংলাদেশি জঙ্গিরা ডেরা বেঁধেছে উত্তর ২৪ পরগনায়, তথ্য চাইল এনআইএ

এরাজ্যে বসবাসকারী সন্দেহভাজন এক বাংলাদেশি যুবক ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)-র গোয়েন্দাদের নজরে। তার সন্দেহজনক গতিবিধি চিন্তা বাড়িয়েছে তাঁদের। বাংলাদেশের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে খবর। ওপার বাংলায় জেহাদি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু সদস্যকে ওই সন্দেহভাজন এখানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে রাজ্য পুলিশের কাছে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। রিপোর্ট হাতে আসার পরই এই বিষয়ে এগতে চাইছে এনআইএ।

সীমান্ত পেরিয়ে কারা কারা এদেশে ঢুকেছে বা ঢোকার চেষ্টা করছে, তা নিয়ে বাড়তি নজরদারি চালায় এনআইএ। এক্ষেত্রে উত্তর ২৪ পরগনা ও মালদহ সীমান্তই অফিসারদের কাছে মূল মাথা ব্যথার কারণ। কারণ শুধুমাত্র জাল নোট নয়, নোট পাচারকারীদের হাত ধরে ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশিরাও। যারা বছরের পর বছর থেকেও যাচ্ছে এদেশে। যাদের কাজকর্ম রীতিমতো সন্দেহজনক ঠেকেছে এনআইএ-এর কাছে। এই কারণেই সীমান্তের ওপার থেকে আসা ফোন কলগুলির উপর বিশেষ নজর রয়েছে গোয়েন্দাদের। জেহাদি কার্যকলাপে যুক্ত ব্যক্তিদের ফোনে আঁড়ি পেতেই সীমান্তে এরাজ্যে তাদের কার্যকলাপের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। সেই সূত্র মারফতই সন্দেহভাজন ওই বাংলাদেশির বিষয়ে তথ্য এসেছে এনআইএর কাছে। পরে জাল নোট পাচারের সঙ্গে জড়িত দু’জনকে গ্রেপ্তারের পর তার বিষয়ে আরও কিছু তথ্য আসে তদন্তকারীদের কাছে।

প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা জানতে পারছেন, ওই যুবক বাংলাদেশ থেকে আসার পর তার কাছে সীমান্ত পেরিয়ে একাধিক অপরিচিত মুখের আসা-যাওয়া শুরু হয়। কয়েকদিন এলাকায় থাকার পর ওই যুবকদের আর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। জানা যাচ্ছে, সন্দেহভাজন ওই যুবক উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে রয়েছে। তাকে এখানে আসতে এবং থাকতে সাহায্য করছে এই এলাকারই এক যুবক। কিন্তু তার সঙ্গে ওই বাংলাদেশির সম্পর্ক কী, তা স্পষ্ট নয়। এমনকী ওই যুবক বাংলাদেশ থেকে আসার পর ভোটার আইডি কার্ড, পাসপোর্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরি করে ফেলেছে। যার ফলে গোয়েন্দাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মাস খানেক আগে গোটা বিষয়টি তাদের নজরে আসে। অল্প কিছুদিন এরাজ্যে আসার পরই সে কী করে বিভিন্ন নথি জোগাড় করল, তা খুঁজে দেখতে চাইছেন এনআইএর অফিসাররা। প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, ওই যুবক বড় কোনও পেশার সঙ্গে জড়িত নয়। অথচ প্রায়ই অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে। এমনকী ঘন ঘন বাংলাদেশেও যাচ্ছে। তার এই গতিবিধি রীতিমতো সন্দেহজনক মনে হয়েছে আধিকারিকদের। এনআইএ-এর কাছে খবর, ওই যুবক অস্ত্র কেনাবেচায় জড়িত। বাংলাদেশ থেকে যে সমস্ত আগ্নেয়াস্ত্র এরাজ্যে ঢুকছে, তা তার মাধ্যমেই আসছে। যা তার হাতঘুরে অন্য জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে। এই বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করার কাজ চলছে। মনে করা হচ্ছে, ওই যুবক সীমান্তের ওপারে কোনও নাশকতার ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। ওই যুবক বাংলাদেশের যে সমস্ত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তারা একাধিক নাশকতার ঘটনায় জড়িত বলে শোনা যাচ্ছে। এমনকী কয়েকজন আবার জেহাদি সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত। যার ফলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চিন্তা আরও বেড়েছে। বিশেষত আইএসের বাংলাভাষী ইউনিটের সদস্যের উপস্থিতি এরাজ্যে আগে পাওয়া গিয়েছে। এই সংগঠনের সঙ্গে ওই যুবক কোনওভাবে জড়িত কি না, তা জানা প্রয়োজন। যার কাজ শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। এনআইএ চাইছে, রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে কিছু তথ্য পেতে। যাতে তাদের তদন্তে এগতে সুবিধা হয়। পাশাপাশি কার মাধ্যমে এই যুবক সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর ২৪ পরগনায় এল তা জেলা পুলিশের সাহায্য নিয়ে চিহ্নিত করতে চাইছে এনআইএ। এমনকী ওই যুবক এখানকার বাসিন্দা হিসাবে যে কাগজপত্র জোগাড় করেছে, তা বৈধ কি না, সেই বিষয়েও এই রাজ্যের পুলিশের কাছ থেকে নিশ্চিত হতে চাইছেন এনআইএর আধিকারিকরা।

ফেসবুকে ধর্ম-অবমাননার অজুহাতে রংপুরের হিন্দুরা আক্রান্ত, বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

rangpur-1রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়ায় টিটু চন্দ্র নামে এক ব্যক্তির ফেসবুক আইডি থেকে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দেয়ার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ মুসলিমরা ওই এলাকার কয়েকটি হিন্দু বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।

জানা যায়, গত ১০ই নভেম্বর, শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা এক জোট হয়ে ইউনিয়নের পাগলাপীর বাজারে মানববন্ধন শুরু করেন। ওই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে আশপাশের কয়েক হাজার মুসলিম ওই এলাকায় জড়ো হন। একপর্যাrangpur-2য়ে বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা ঠাকুরপাড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকে এবং সেখানের তিনটি হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ঘটায়। এ ঘটনায় পুলিশ তাদের বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় সংঘর্ষ। rangpur-3পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশসহ অন্তত ১০জন আহত হন। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনাস্থল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-এ) সাইফুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।