তীর্থযাত্রীদের খতম করার ছক কষেছে জঙ্গিরা, গোয়েন্দা রিপোর্টে আতঙ্কে অমরনাথ যাত্রীরা

amarnathঅমরনাথ ‌যাত্রীদের ওপরে হামলা চালানোর ছক কষেছে জঙ্গিরা। গোয়েন্দারা সতর্ক করেছেন তীর্থ‌যাত্রী ও নিরাপত্তা কর্মীদের ওপরে হামলা চালাতে পারে জঙ্গিরা। এরকম একটি রিপোর্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হয়ে ‌যেতেই ‌যাত্রাকে ঘিরে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে বুধবার শুরু হচ্ছে এবছরের অমরনাথ ‌যাত্রা। আজ ‌থেকে যাত্রা করবেন ৪ হাজার তীর্থ‌যাত্রী। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা ওই ‌যাত্রার সময়ে কমপক্ষে একশো নিরাপত্তাকর্মী ও এক থেকে দেড়শো তীর্থ‌যাত্রীকে খতম করার নির্দেশ এসেছে জঙ্গিদের পক্ষ থেকে।

কাশ্মীর জোনের আইজি মুনীর খান এবিয়ে বলতে গিয়ে সংবাদ মাধ্যমে বলেন, জঙ্গি আক্রমণের সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল সিআরপিএফ ও সেনাকে। পাশাপাশি ওই চিঠি পাঠানো হয়ে ১৫ নম্বর করপকে। সেটাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হয়ে ‌যায়।

আজ ‌থেকে টানা ৪০ দিন ধরে চলবে অমরনাথ ‌যাত্র। ‌যাত্রার নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার নিরাপত্তারক্ষী। সেনা, বিএসএফ ও সিআরপিএফ জওয়ানরা ওই বাহিনীতে থাকছেন। বুধবার অনন্তনাগ ও বালতাল থেকে দুদলে ভাগ মোট চার হাজার ‌যাত্রীর প্রথম দলটি অমরনাথের উদ্দেশ্যে ‌যাত্রা করবে।

গোয়েন্দাদের আশঙ্কা আচমকাই তীর্থ‌যাত্রীদের ওপরে গুলি চালাতে পারে জঙ্গিরা। মুনীর খান জানিয়েছেন, আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। তীর্থ‌যাত্রীদের নিরাপত্তা অত্যন্ত কঠোর করা হয়েছে। সিআরপিএফের স্পেশাল ডিজি এস এন শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন গোয়েন্দা তথ্য অনু‌যায়ী সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গতবছর ৮ জুলাই নিহত হয় হিজবুল জঙ্গি বুরহান ওয়ানি। তার প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে জঙ্গিরা হামলা চালাতেই পারে। এমনটাই ধারণা করা হয়েছে। ফলে আগে থেকেই এনিয়ে সতর্ক হয়েছিল নিরাপত্তাকর্মীরা।

খবর সৌজন্যে : http://www.india.com

দেগঙ্গায় ঠাকুরের বেদি ভেঙে পাক পতাকা ওড়ানোর অভিযোগ

Pakistan-flag-wallpapers-wide.jpgইদের আবহে ২০০ বছরের পুরাতন মনসা ঠাকুরের বেদি ভেঙে বেদির মাথায় পাকিস্তানের পতাকা ঝুলিয়েছে এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু যুবক – এমনই অভিযোগ করলেন এলাকার হিন্দুরা। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা থানার কৈসুর এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রের খবর, রবিবার ২৫শে জুন, রাতে ইদের পোস্টার ঝোলানোর সময়,অন্ধকারে এলাকার কিছু মুসলিম যুবক শাবল দিয়ে পাথরের মনসা ঠাকুরের বেদি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ। সোমবার সকালে বেদিতে পুজো দিতে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এলাকার ঘটনার কথা দেগঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। অভিযোগ রবিবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় এলাকার মুসলিমরা রাতের অন্ধকারে এই বেদি ভেঙে, পাকিস্তানের পতাকা ঝুলিয়েছে। এদিন এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে দেগঙ্গা থানায় বেদি সংস্কার ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। ঘটনার তদন্তে নেমেছে দেগঙ্গা থানার পুলিশ।

বাবাকে আল্লাহর সাথে তুলনা করে তীব্র সমালোচনার মুখে জনপ্রিয় সঞ্চালক-অভিনেতা মীর

mir with fatherজনপ্রিয় সঞ্চালক এবং অভিনেতা মীর আফসার আলি আবার ধর্মীয় মৌলবাদীদের আক্রমণের মুখে । এবারেও ঘটনার মুলে সেই ফেসবুক পোস্ট।যার কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে মীরকে।

সোমবার ঈদের দিনে নামাজ শেষে বাবা তথা আব্বার সঙ্গে একটি ছবি নিজের ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করেন মীর। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন। “আমার আব্বা… আমার আল্লাহ…। ” তারকা ব্যক্তি মীরের ফেসবুক পেজে এই পোস্ট পছন্দ হয়নি বহু ধর্ম প্রাণ মুসলিমের। এরপর থেকেই ওই পোস্টের কমেন্টে শুরু হয়েছে আক্রমণ। নিজের জন্মদাতাকে আল্লাহর সঙ্গে তুলনা করে মারাত্মক পাপ করেছেন মীর।

জনপ্রিয় তারকা মীরের ফেসবুক পেজে করা পোস্ট ভাইরাল হতে খুব বেশি সময় নেয়নি। সেখানে একজন তাকে আক্রমণ করে লিখেছেন, বিধর্মীদের সঙ্গে বেশিক্ষণ সময় কাটান মীর। সেই কারণেই তিনি ইসলামের জ্ঞান সম্পর্কে অবগত নন। গান বাজনা আর পাপ কাজের বিষয়ে মীরের বহুল জ্ঞান রয়েছে বলেও কটাক্ষ করেছেন ওই ব্যক্তি। কেউ আবার মীরের ইসলামিক জ্ঞান না থাকার জন্য তার বাবাকে দায়ী করেছেন। তিনিই নাকি মীরকে প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছেন।

এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে এই ধরণেরই একটি ঘটনা ঘটেছিল। ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনে স্ত্রী-কন্যার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন মীর। খ্রিস্টানদের উৎসব বড়দিন পালন এবং হিজাব ছাড়া স্ত্রী-কন্যার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার অপরাধে মীরকে এভাবেই আক্রমণের শিকার হতে হয়েছিল।

ভাঙলেন প্রথা, হোয়াইট হাউসে ইফতারের আয়োজন করলেন না ট্রাম্প

DTমার্কিন মুলুকে রয়েছেন প্রধামন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী l সন্ত্রাসবাদকে কড়া হাতে মোকাবিলা করতে যাতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সেই আলোচনাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী করবেন বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল l শুধু তাই নয়, মোদীর সফরকালে ভারতকে ‘পরম বন্ধু’ বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প l আর এবার ট্রাম্প প্রশাসন কি করল জানেন?

রিপোর্টে প্রকাশ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী সফরকালেই ঐতিয্য ভাঙলেন ট্রাম্প l রমজানে এবার আর কোনও ইফতার পার্টির আয়োজন করা হল না হোয়াইট হাউসে।সাদা বাড়িতে যে এবার আর কোনও ইফতারের আয়োজন করা হবে না, সে কথা সরকারিভাবে জানানোও হয়নি l

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে থেকেই নিজের কট্টরপন্থী অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প l ৭টি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশের ওপরও জারি করেছেন নিষেধাজ্ঞা l পাশাপাশি, ব্রিটেনের কায়দায় মধ্য প্রাচ্যের দেশ থেকে যে বিমানগুলি আমেরিকায় ঢুকবে, সেই সব বিমানের যাত্রীরা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে আমেরিকায় প্রবেশ করতে পারবেন না বলেও স্পষ্ট নির্দেশ জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন l আর এবার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ভেঙে রমজান মাসের ইফতার এড়িয়ে গেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প l

চিত্র ও খবর সৌজন্যে : http://www.india.com

শ্রীনগরে CRPF-এর ওপরে হামলা চালিয়ে স্কুলে ঢুকে পড়ল ২ লস্কর জঙ্গি, চলছে গুলির লড়াই

indian-armyyy-1শনিবারের পর রবিবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল শ্রীনগরের পান্থচক।গতকাল সিআরপিএফের ওপরে হামলার পর দুই জঙ্গি আশ্রয় নিয়েছে পান্থচকের ডিপিএস স্কুলে। তাদের বের করে আনতেই রবিবার ভোর থেকে শুরু হয়েছে গুলির লড়াই।

উল্লেখ্য, গতকাল শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়কের ওপরে পান্থচকে সিআরপিএফের ২৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের পরে হামলা চালায় কমপক্ষে ৫ জঙ্গি। তাদের গুলিতে নিহত হয় ২ জওয়ান। আহত হন আরও ৩ জন। হামলার পরই দুই জঙ্গি পান্থচকের দিল্লি পাবলিক স্কুলে ঢুকে পড়ে। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, জঙ্গি-সেনা গুলির লড়াই শুরু হয়েছে রবিবার ভোর ৩টে ৪০ মিনিট নাগাদ।

পান্থচক একটি জনবহুল এলাকা হওয়ায় অধিকাংশ জঙ্গি গা ঢাকা দিতে সফল হয়। কিন্তু তা করতে পারেনি ২ জন। এরাই লুকিয়েছে স্কুল। পান্থচকের ডিপিএস স্কুলে রয়েছে ৪০০ ঘর। ফলে সেখানে খুব সহজেই তারা লুকিয়ে পড়তে পেরেছে। তাদের ঘিরে ফেলেছে সেনা। জঙ্গিদের খুঁজে বের করতে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।

গতকাল হামলার পরই পান্থচককে ঘিরে ফেলে সিআরপিএফ। শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুরু হয় চিরুণী তল্লাশী। এর ফলে জঙ্গিদের সবাই পালাতে পারেনি।

চিত্র ও খবর সৌজন্যে : http://www.india.com

হিন্দু রোগী এলেই খুন করব, হুমকি ডাক্তারের

sssssssssssssssssssssssএতদিন জেহাদের নামে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের হত্যার হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা দেখতে পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু এবার যে ঘটনা প্রকাশ্যে এল, জানলে আপনি চমকে উঠবেন। মুম্বইয়ের এক ডাক্তার হুমকি দিলেন, তাঁর ক্লিনিকে কোনও হিন্দু রোগী এলেই তাঁকে হত্যা করবেন! জনৈক ব্যক্তি ফেসবুকে ইসলাম ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মন্তব্য করায় বেজায় চটেছেন ওই ডাক্তার। সোশ্যাল মিডিয়াতে পাল্টা ওই ডাক্তারের হুমকি, পরের বার ক্লিনিকে কোনও হিন্দু রোগী এলে তাঁকে হত্যা করবেন।
ওই মহিলা ডাক্তারের ফেসবুক পোস্টটির বেশ কয়েকটি স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। একটি ওয়েবসাইটের দাবি, গত ১৮ই জুন, রবিবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয়ের ব্যক্তি ওই ডাক্তারের ফেসবুক প্রোফাইলে পাক-বিরোধী কমেন্ট পোস্ট করেন। এতেই ব্যাপক চটে যান ওই মহিলা ডাক্তার। পাল্টা কমেন্টে তিনিও হুমকি দেন, এরপর কোনও হিন্দু রোগী তাঁর ক্লিনিকে ডায়ালিসিস করাতে এলে তিনি সাপোর্ট সিস্টেম খুলে রোগীকে হত্যা করবেন। পাশাপাশি, প্রকাশ্যেই পাক-পন্থী মনোভাবের পরিচয় দেন অভিযুক্ত। তাঁর ওই কমেন্টটির ছবি ভাইরাল হয়ে ওঠে। কয়েকজন ফেসবুক ও টুইটার ইউজার সেই ছবি ইতিমধ্যেই মুম্বই পুলিশের আইটি ডিপার্টমেন্টে পাঠিয়েও দিয়েছেন। সাধারণ মানুষ এখন ওই হাসপাতালে যেতেই ভয় পাচ্ছেন বলে খবর মিলেছে।
তবে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর ওই ডাক্তার এবার উলটো সুর ধরেছেন। তাঁর ল্যাপটপ চুরি গিয়েছে, এমনকী তিনি তাঁর ফেসবুকের পাসওয়ার্ডও মনে করতে পারছেন না বলে দাবি করেছেন ওই মহিলা ডাক্তার। অনেকেই বলছেন, ভারতে ডাক্তাররা নারায়ণ রূপে পূজিত হন। সেই দেশে একজন ডাক্তার কী করে বেছে বেছে হিন্দু রোগীদের হত্যা করার হুমকি দিতে পারেন?

যোগব্যায়াম ঈমান নষ্ট করেঃ হেফাজত

page-138হিন্দু দর্শনের যোগসাধনার সঙ্গে মুসলমানদের কোনো সম্পর্ক নেই জানিয়ে হেফাজতে ইসলাম বলেছে, এটি মুসলমানদের ঈমান আকিদার বিরোধী। মুসলমান হয়েও যারা হিন্দুদের ধর্মীয় যোগসাধনায় অংশগ্রহণ করবেন, তারা ঈমানহারা হয়ে যাবেন।
২০শে জুন, মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক ‍বিবৃতিতে হেফাজত ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এসব কথা বলেন।ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে আগামী ২১ জুন জাতীয় জাদুঘরে যোগব্যায়ামের বিশ্বদিবস পালনের প্রতিবাদ জানিয়ে হেফাজতে ইসলাম এই বিবৃতি দিয়েছে।বিবৃতিতে আজিজুল হক বলেন, ‘হিন্দু দর্শনের ছয়টি প্রাচীনতম শাখার একটি হচ্ছে যোগ। ‘যোগ’শব্দটি হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের ধ্যানপ্রণালীকেও নির্দেশ করে। হিন্দু দর্শনের নির্দেশিত বিশেষ ব্যয়াম ও শারীরিক কসরত এবং ধ্যান ও তপস্যার সংযোগে যোগচর্চা করা হয়। যোগসাধনা বা যোগদর্শন নিছক শারীরিক ব্যয়াম মাত্র নয়, বরং এর সঙ্গে ধর্মীয়ভাবে হিন্দু দর্শনের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। যোগসাধনা সম্পর্কে বিভিন্ন হিন্দু ধর্মগ্রন্থে আলোচনাও করা হয়েছে। আমরা মনে করি, এই যোগসাধনায় মুসলমানদের অংশগ্রহণ করা তাদের ঈমান-আকিদার হানি ঘটাবে। বরং মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজই হচ্ছে সর্বোত্তম, যা ফরজ এবাদত এবং আধ্যাত্মিক, মনোসংযোগ, চিন্তন ও শারীরিক সব ক্ষেত্রেই উপকারী।’
তবে জিমন্যাশিয়ামে গিয়ে শরীরচর্চার সঙ্গে ঈমান-আকিদার বিরোধ নেই বলে মনে করেন হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদিক। তিনি বলেন, ‘হিন্দু ধর্মের যোগশাস্ত্রকে ‘সার্বজনীন’ বলে মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় এবং সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন মৌলবাদী দল বিজেপি হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে যোগশাস্ত্রকে ব্যবহার করছে।
এমনকি ভারতের মুসলমানদের অভিযোগ, যোগ হিন্দু উপাসনার একটি অংশ, কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তা সবার ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছেন। আমরা চাই প্রতিবেশী প্রভাবশালী দেশ হিসেবে ভারত আমাদের নিজস্ব ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি সবসময় শ্রদ্ধাশীল থাকবে।’

ভালোবেসে অন্য ধর্মে বিয়ে, না মানায় আত্মহত্যার হুমকি যুবক-যুবতীর

1212ভালবেসে বিয়ে করেও ঘর বাঁধার ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় বাধা হয়ে দেখা দেওয়ায় আত্মহত্যার হুমকি দিল সদ্য বিবাহিত যুবক-যুবতী। গত ১৯শে মে, সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ জয়পুর এলাকায়।দুজনের বিপদের কথা শুনে যুবক-যুবতীকে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় প্রতিবেশীরা।
পুলিশ সূত্রের খবর ওই দুজনের নাম আসমা সেখ (১৮)ও সুব্রত বিশ্বাস (২১)। দীর্ঘ দুবছর ধরে তাদের ভালবাসার সম্পর্ক। বাড়ির আত্মীয়রা সে কথা আগে থেকে জানলেও তা মেনে নেয়নি। কিন্তু ভালবাসাকে বাজি রেখে সোমবার বাবা মায়ের অমতে হিন্দু মতেই মন্দিরে গিয়ে মন্ত্র পরে বিয়ে হয় তাদের। এরপরই শুরু হয় বিপত্তি। বিয়ের খবর পাওয়ার পর থেকে সুব্রত বিশ্বাসকে খুনের হুমকি দেন আসমার আত্মীয়রা। এমনকি আসমাকে তুলে আনতেও লোক পাঠান আসমার বাবা ফরিয়াদ সেখ। আতঙ্কে স্থানীয় প্রতিবেশীদের খবর দেন সুব্রত । এরপর প্রতিবেশীরা এলে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
স্থানীয় কাউন্সিলারের পরামর্শ নিয়ে বনগাঁ থানায় গিয়ে আসমা ও সুব্রত পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। অন্য ধর্ম হলেও ভালবাসাকে মিথ্যে হতে দিতে চান না আসমা সেখ। তিনি বলেন ধর্মের জন্য যদি আমাদের বিয়েতে বাধার সৃষ্টি হয় তাহলে সেই ধর্মকে আমরা মানিনা। আমাদের এই সম্পর্ক নিয়ে অনেক বাধাও এসেছে। আজ সব কিছু উপেক্ষা করে সুব্রতকে বিয়ে করেছি। এরপর যদি কেউ বাঁধার সৃষ্টি করে দুজনেই এক সঙ্গে আত্মহত্যা করব।

৩৪ হিন্দু পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে মাদ্রাসা শিক্ষক

hindu-familiesনওগাঁর মান্দা উপজেলার পিড়াকৈর হিন্দুপলি্লতে বাঁশের বেড়া দিয়ে মন্দির চত্বরের জমি দখল, রাস্তা বন্ধ করে রাখার ঘটনায় ৩৪টি হিন্দু পরিবার আতঙ্কিত হয়ে জীবনযাপন করছেন। এছাড়াও হিন্দু বাড়িতে হামলা-মারপিট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্রমেই আতঙ্কিত হয়ে উঠছে তারা। হিন্দু সম্প্রদায় পল্লীর বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশের অসহযোগিতা ও গাফিলতির কারণে তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। এ অবস্থায় সম্প্রদায়ের লোকজনদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে তাদের।
ওই পল্লীর বাসিন্দাদের অভিযোগ, মন্দির চত্বরের সাড়ে ৭ শতক জমি নিয়ে গ্রামের শ্রীমন্ত সাহা মংলার সঙ্গে মাদরাসা শিক্ষক হাবিবুর রহমানের বিরোধ চলে আসছিল। গত ২৮ এপ্রিল হাবিবুর রহমান ওই সম্পত্তি জবরদখল করে বাঁশের খুঁটির সাহায্যে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধসহ মন্দির চত্বর বেড়া দিয়ে ঘিরে দেন। এতে গ্রামের ৩৪ হিন্দু পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পরে এ ঘটনায় ২৮ এপ্রিল থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
স্থানীয়রা জানান, গত ৭ মে বিকেলে শ্রীমন্ত সাহার ছেলে রিতেন সাহা ধান মাড়াইয়ের মেশিন বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় হাবিবুর রহমানের দেওয়া বেড়ার কিছু অংশ ভেঙ্গে যায়। এর জের ধরে হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে ভাই মনিরুল ইসলামসহ ৯-১০ জন সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে রিতেন সাহার (২৮) ওপর হামলা চালায়। এ সময় বাধা দেওয়ায় রিতেন সাহার মা সপ্তমী রানী সাহা (৬০), স্ত্রী ছন্দা রানী সাহা (২১), ভাবি লক্ষ্মী রানী সাহা (৩০) ও ভাতিজি বৃষ্টি রানী সাহাকে (১৩) পিটিয়ে জখম করে হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভুক্তভোগি শ্রীমন্ত সাহা জানান, গত ৭ মে হামলা ও মারপিটের ঘটনায় ছেলে প্রদীপ সাহা বাদি হয়ে হাবিবুর রহমানসহ ১২জনের বিরুদ্ধে থানায় আরো একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে টালবাহান করে পুলিশ। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত ৮ই মে, বৃহস্পতিবার আসামিরা আদালত থেকে জামিন নেয়। জামিনে এসে তার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্নভাবে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন হাবিবুর মাষ্টার। তিনি দাবি করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে হাবিবুর মাষ্টার ও তার লোকজন শনিবার (১০মে) রাতের অন্ধকারে বসতবাড়িতে আগুন দিয়ে তাদের পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে। ছোট ছেলে রিতেন সাহাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে মাষ্টার পক্ষের লোকজন।
এ অবস্থায় চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে তাদের। তার অভিযোগ, পুলিশ সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এ অবস্থার সৃষ্টি হত না। পুলিশের ওপর আস্থা না থাকায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গত ১২ই মে, সোমবার নওগাঁ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় চেয়ারম্যান ব্রজেন্দ্রনাথ সাহা জানান, থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় গত বুধবার (১৪ই মে) বিকেলে বাধ্য হয়ে মন্দির চত্বরে দেওয়া বেড়াটি গ্রামপুলিশ দিয়ে সরিয়ে গ্রামবাসির চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, শ্রীমন্ত সাহার বসতবাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এর সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। এ দিকে পিড়াকৈর গ্রামে হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা-মারপিট ও অগি্নসংযোগের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক প্রবীন কুমার দাস। তবে পুলিশের অসহযোগিতা ও গাফলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, শ্রীমন্ত সাহার বাড়িতে অগি্নসংযোগের ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। শ্রীমন্ত সাহা ও হাবিবুর মাষ্টারের বিরোধকে কাজে লাগিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষ ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে কি-না তদন্তে সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবিলম্বে জড়িতদের আইনের আওতায় নেওয়া হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।

মেয়েদের অপহরণ করে বিয়ে, ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হিন্দু কাউন্সিল

pak-Hinduপাকিস্তানে হিন্দুদের উপরে চলছে নারকীয় অত্যাচার। হিন্দু মেয়েদের জোর করে ধর্ষম করা হচ্ছে। তাঁদের অপহরণ করা হচ্ছে। এই সব ঘটনায় বিচার চেয়ে সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল পাকিস্তান হিন্দু কাউন্সিল। সিন্ধপ্রদেশে নাবালিকা হিন্দু মেয়েদের তুলে নিয়ে গিয়ে জোর করে বিয়ে করছেন মুসলিম ‌যুবকরা। গত সপ্তাহেই উমেরকোটে ১৬ বছর বয়সী রবিতা মেঘওয়াদ নামে এক নাবালিকাকে জোর করে বিয়ে করেছে তার চেয়ে বয়সে দ্বিগুণ বড় উমের কোটের এক মুসলিম ব্যক্তি। এই ঘটনার পরই গত রবিবার বৈঠকে বসে হিন্দু কাউন্সিল।

তারা জানিয়েছে, রবিতার পরিবারকে ঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। তাকে উদ্ধার করার জন্য কোনও চেষ্টাই করেনি প্রশাসন। হিন্দু কাউন্সিলের প্রধান রমেশকুমার ভাকওয়ানির কথায়,”সিন্ধপ্রদেশে হিন্দুদের উপরে অত্যাচারের ঘটনা বেড়ে গিয়েছে। ইসলামে জোর করে ধর্মান্তরিত করায় আপত্তি রয়েছে আমাদের। এখানে মেয়েদের অপহরণ করে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। তাদের সম্মতি ছাড়াই জোর করে বিয়ে করা হচ্ছে।”

প্রতিবছর পাঁচ হাজার হিন্দু পাকিস্তান ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। তাঁরা অন্যান্য দেশে পালিয়ে ‌যাচ্ছে বলে জানান ভাকওয়ানি। তাঁর বক্তব্য,”পাকিস্তানে হিন্দুদের কোনও সু‌যোগসুবিধা নেই। তাঁদের এখানে আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। ফলেপালিয়ে ‌যাওয়া ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই।”

চিত্র ও খবর সৌজন্যে : ajkerchattagram.com