খোকসায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের উপস্থিতিতে মসজিদ থেকে মাইকিং করে এক ইউপি মেম্বারের সমর্থকদের ২০টি বাড়িতে হামলা ও লুটতরাজ করেছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। হামলায় ২৩ নারী-পুরুষ ও শিশু আহত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামের ভেতর দিয়ে দ্রুত মোটরসাইকেল চালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরাজিত ইউপি মেম্বার প্রার্থী ফারুকের সমর্থক এনজিও কর্মী রাকিবের ওপর হামলা করে প্রতিপক্ষ জহুরুল মেম্বারের লোকেরা। এ ঘটনার নিষ্পত্তির জন্য ২৬শে এপ্রিল, বুধবার উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও ওসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বাবলু ওসমানপুর কলতলা গ্রামে সালিশ বৈঠকে বসেন।
toaএ সময় চেয়ারম্যানের গ্রাম দেবীনগরের মসজিদ থেকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে জহুরুল মেম্বারের লোকদের বাড়িতে হামলা ও লুটতরাজ চালানো হয়। হামলাকারীরা আবদুস সালাম, রিপন, সোবাহান, শাজাহান, ময়েন, আবু তালেব, মুক্তার, হাসান, মতিন, হেকমত আলীর বাড়িসহ ২০টির বেশি বাড়ির দরজা-জানালা ও টিনের বেড়া ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে সাব্বির, শাজাহান, রজব আলীসহ ৮ জনকে খোকসা ও কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জহুরুল মেম্বার অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে কৃষক লীগ সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান পরিকল্পিতভাবে মাইকিং করে হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশের উপস্থিতিতেই প্রথমে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির পর লুটতরাজ করে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে কৃষক লীগ সভাপতি ও ওসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বাবলু দাবি করেছেন, মূলত বিরোধ জহুরুল মেম্বার ও তার প্রতিপক্ষ ফারুকের মধ্যে। দু’পক্ষ ফোন করে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। গুজবকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের গ্রাম দেবীনগর মসজিদের মাইক থেকে তাকে উদ্ধারের জন্য ঘোষণা দেওয়া হয় বলে তিনি স্বীকার করেন।
খোকসা থানার এসআই হুমায়ন রেজা হামলা ও ভাংচুরের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে মাইকিং করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। হামলার সময় তিনি ও কয়েক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান।