গত কয়েকদিন ধরে বদলে গিয়েছে ভারতের সবথেকে সুন্দর ভূ-খণ্ড কাশ্মীরের ছবিটা। ভূস্বর্গের বুকে শুধুই বুলেট, রক্ত, স্লোগান। কাশ্মীরের সোপিয়ানকে ‘আজাদ কাশ্মীর’ ঘোষণা করতেই যাচ্ছিল পাক জঙ্গি আর তাদের মদতপুষ্ট কিছু লোকজন। সেনাবাহিনীর অপারেশনে সেই ছক বানচাল হয়ে গিয়েছে। ৪০০০ সেনার প্রাণপণ লড়াইয়ের কাছে হার মেনেছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।

kashmirজানা গিয়েছে, গত এক বছরে কমপক্ষে ১৬০ জন জঙ্গি পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে এসেছে এদেশে। সোপিয়ান জেলায় ঘাঁটি গাড়তে শুরু করেছিল তারা। স্থানীয় লোকজন এমনকি নেতাদের তাদের দলে ভিড়িয়ে এই আন্দোলনে সামিল করতে চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল একটা জেলা থেকে শুরু করে একে একে গোটা কাশ্মীরটাই ‘আজাদ’ করে দেওয়া হবে। আন্দোলনের টাকা জোগাড় করতে একের পর এক ব্যাংক লুঠ করে তারা। গত বৃহস্পতিবারই সোপিয়ানকে ‘আজাদ কাশ্মীর’ ঘোষণা করা হবে, এমন পরিকল্পনা ছিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের। ‘আজাদ কাশ্মীর’ লেখা হাজার খানেক ব্যানারও তৈরি হয়ে গিয়েছিল। কোথায় র‍্যালি বেরোবে, সেসবও নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। আর এই পরিকল্পনার খবর আসতেই অভিযানে নেমে পড়ে সেনাবাহিনী। গত ১৫ বছরের মধ্যে সবথেকে বড় অভিযান চালায় তারা।

জওয়ানদের জীবনের ঝুঁকি ছিল প্রতি মুহূর্তে। জঙ্গিরা লুকিয়ে ছিল যেখানে-সেখানে। তাই রাস্তায় নেমে অভিযান চালাতে গিয়ে যে কোনও সময় বিপদ ঘটতে পারত। প্রায় ২০টি গ্রাম ঘিরে ফেলা হয়েছিল৷ বুধবার রাতের দিকেই এই অভিযান শুরু হয়৷ ১৯৯০-এর পর এটাই কাশ্মীরে সবথেকে বড় সেনা অভিযান বলে মনে করা হচ্ছে৷ অভিযানের সময় ড্রোন এবং হেলিকপ্টার ও ব্যবহার করা হয় নজর রাখার জন্য৷ রাস্তায় রাস্তায় নিরাপত্তা রক্ষী মজুত করা হয়৷ স্থানীয়দের এলাকা ছেড়ে যেতেও নিষেধ করা হয়েছে৷ এমনকি বন্ধ স্কুলও৷ উপত্যকায় সাম্প্রতিক ব্যাংক ডাকাতি এবং জঙ্গি হামলার জন্যই এই তল্লাশি পর্ব শুরু হয়৷ সামরিক বাহিনী যে সব গ্রাম ঘিরে ফেলেছে, সেইসব গ্রামেই জঙ্গিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়ে, ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে বলে জানা যায়৷

তবে এখনও লুকিয়ে রয়েছে জঙ্গিরা। সেনা মোতায়েন না থাকলে আবারও তৈরি হবে ‘আজাদ কাশ্মীর’-এর ছক।

সৌজন্যে : কলকাতা 24×7