অনুপ্রবেশের ছক বানচাল করে দিল কেন্দ্রীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী৷ পাঞ্জাবের গুরুদাসপুরে ভারিয়াল পোস্টের কাছে আজ ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ এক পাক অনুপ্রবেশকারীকে গুলিতে ঝাঁজরা করে দিল বিএসএফ-এর ১২০ ব্যাটেলিয়ন৷ বিএসএফ এক বিবৃতি দিয়ে এই কথা জানিয়েছে৷
গত কয়েকদিন ধরেই তপ্ত হয়ে রয়েছে নিয়ন্ত্রণরেখার আশেপাশের এলাকা তপ্ত হয়ে রয়েছে৷ গতকালও, উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে দুই লস্কর জঙ্গি খতম হয়েছে৷ পাক রেঞ্জার্স ও জঙ্গিদের জোড়া নিশানায় জম্মু ও কাশ্মীর৷ তপ্ত পরিস্থিতি উপত্যকায়৷ রবিবার ভোরে কুপওয়ারার ভগৎপুরা এলাকায় অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীরা৷ জঙ্গিরা নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে৷ পাল্টা আক্রমণ করেন সীমান্তরক্ষীরা৷ ঘটনাস্থলেই নিকেশ হয় দুই জঙ্গি৷ সংঘর্ষে কোনও সাধারণ মানুষ হতাহত হননি৷ ঘটনাস্থল থেকে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে৷ গোপন ডেরায় আর কোনও জঙ্গি রয়েছে কি না, তা সুনিশ্চিত করতেই জোর তল্লাশি শুরু হয়েছে৷

bsf1

সীমান্তে টহলরত জওয়ানেরা

এই পরিস্থিতির মধ্যে রবিবার ভোর থেকেই ফের সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে রাজৌরি জেলার নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বিভিন্ন এলাকায় গুলি ও মর্টার ছুড়তে শুরু করে পাক রেঞ্জার্স৷ বাদ যায়নি সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিও৷ কোনওরকম উস্কানি ছাড়াই আবারও স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় পাক সেনারা৷ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা পাল্টা জবাব দেন৷ পাক হামলায় কেউ হতাহত হননি৷ তবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজৌরির বেশ কিছু ঘর-বাড়ি৷ এ নিয়ে গত কয়েকদিনে অন্তত চার বার সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গোলাবর্ষণ করল পাক সেনার৷ শনিবারই রাজৌরির নৌশেরা সেক্টরে মর্টার আক্রমণে এক শিশুকন্যা-সহ দু’জন মারা যান৷ গুরুতর জখম হন তিনজন৷ এ মাসের শুরুতেই পুঞ্চে পাক-বর্বরতার ক্ষতচিহ্ন এখনও রয়েছে৷
পাক গোলার আতঙ্কে প্রাণ বাঁচাতে ইতিমধ্যে রাজৌরির প্রায় ১০০০ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ নিজেদের ভবিষ্যত্‍ নিয়ে কার্যত দুশ্চিন্তায় রয়েছে কয়েক হাজার পড়ুয়া৷ কারণ সুরক্ষার জন্যই ৮৭টি স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ এর মধ্যে আগেই রাজৌরি জেলার নৌশেরা সেক্টরের ৫১টি স্কুলকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ রাজৌরির ডেপুটি কমিশনার শাহিদ ইকবাল চৌধুরি জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গ্রামগুলি লক্ষ্য করে পাক সেনারা ৮২ বি ও ১২০ এমএম মর্টার ছুড়ছে৷ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীও উপযুক্ত জবাব দিয়েছে৷ রবিবার মাঞ্জাকোট এলাকায় মর্টার ছুড়তে থাকে পাক রেঞ্জাররা৷
সন্ত্রস্ত মানুষজন যাতে নিরাপদে থাকতে পারে সেজন্য প্রশাসনের তরফে রাজৌরিতে বেশ কয়েকটি ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়েছে৷ সেখানে পর্যাপ্ত পানীয় জল, খাবারের বন্দোবস্ত করা হয়েছে বলে প্রশাসনের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন৷ শিবিরগুলিতে আতঙ্কিত গ্রামবাসীদের আর্থিকভাবে সাহায্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ আহতদের যাতে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়, সেজন্য রাজৌরিতে ছ’টি অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে৷ নৌশেরায় রয়েছে একটি মেডিক্যাল ইউনিট৷ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে তৈরি করা হয়েছে একটি কন্ট্রোল রুম৷