SC-Sculpture-Lady-Justice-eবৃহস্পতিবার মধ্য রাতে শুরু করে ভোরের আগেই ভাস্কর্যটি সরানোর কাজ শেষ করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রবেশ মুখ থেকে সরিয়ে কাপড় মুড়িয়ে এটি এখন রাখা হয়েছে এনেক্স ভবনের পাশে। কাদের তদারকিতে ভাস্কর্যটি সরানো হল, সে বিষয়ে কোনো ভাষ্য মেলেনি কারও।

ভাস্কর্যটির শিল্পী মৃণাল হক বলেছেন, ‘চাপের মুখে’ এটি সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। কারা চাপ দিয়েছে, সে বিষয়ে মুখ না খোলেননি তিনি। শুধু বলেছেন, ভাস্কর্যটি যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য অপসারণের সময় উপস্থিত ছিলেন তিনি। ভাস্কর্যটি সরানোর সময় সুপ্রিম কোর্টের তালাবদ্ধ ফটকের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন ছাত্র ও সংস্কৃতিকর্মীরা। এটাকে মৌলবাদীরে কাছে নতি স্বীকার আখ্যায়িত করে শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভের ডাকও দিয়েছেন ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মাসে ভাস্কর্যটি অপসারণের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর রোজায় আগেই তাSC-Sculpture-Removal-01 সরানোর দাবি জানিয়ে হরতালের হুমকি দিয়েছিল কয়েকটি ইসলামী সংগঠন। রোজা শুরুর তিন দিন আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আকস্মিকভাবে এক দল শ্রমিককে ভাস্কর্যটি অপসারণের কাজ শুরু করতে দেখা যায়। সুপ্রিম কোর্টের ফটক তালাবদ্ধ থাকায় বাইরে থেকে শুধু দেখা যাচ্ছিল, কিন্তু কারও সঙ্গে কথা বলার সুযোগ ছিল না সাংবাদিকদের। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ‘আদালতের বিষয়’ বলে এড়িয়ে যান। সুপ্রিম কোর্টের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। শ্রমিকরা যখন কাজ করছিল, তখন একটি ছোট ট্রাক এবং গাড়ির পাশে ছিল। কিছু সময় পর ভাস্কর্যটির শিল্পী মৃণাল হককেও সেখানে দেখা যায়। তিনি ফটকের কাছে এলে সাংবাদিকরা ছেঁকে ধরেন তাকে।মৃণাল বলেন, “আমি কিছু জানি না, উপরের পেসারে সরাতে হচ্ছে। আমাকে বলা হয়েছে সরাতে, চাপ দেওয়া হয়েছে।” কারা চাপ দিয়েছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অনেকের অনেক রকম ক্ষমতা আছে। আমি বানিয়েছিলাম, আমাকে সরাতে বাধ্য করা হচ্ছে। “আমার হাত-মুখ বাঁধা। মাফ চাই, আমি কিছু বলতে পারব না।” অন্যরা সরালে ভার্স্কযটি ভেঙে কিংবা নষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা থেকে নিজেই সরাতে এসেছেন বলে জানান মৃণাল হক।

রোমান যুগের ন্যায়বিচারের প্রতীক ‘লেডি জাস্টিস’র আদলে এই ভাস্কর্য বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হলে হেফাজতসহ কয়েকটি ইসলামী সংগঠন তার বিরোধিতায় নামে।হেফাজত এই ভাস্কর্য সরানোর দাবি জানিয়ে সরকারকে ৫ মে মতিঝিলে ফের সমাবেশের হুমকি দেয়। ওলামা লীগও তা অপসারণের দাবি জানায়।

চিত্র ও খবর সৌজন্যে : bdnews24.com