12ফেসবুকে ধর্ম সংক্রান্ত একটি পোস্ট শেয়ার করা নিয়ে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল হরিশ্চন্দ্রপুরের তুলসীহাটা। গোষ্ঠী সংঘর্ষে আহত বেশ কয়েকজন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস ও গুলি চালাতে হয়। অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। এই মুহূর্তে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটলেও, উত্তেজনা রয়েছে এলাকায়। তবে এনিয়ে পুলিশ, প্রশাসনের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তুলসীহাটা হাইস্কুলের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক নজ়রুল ইসলাম তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ধর্ম সংক্রান্ত একটি পোস্ট শেয়ার করেন। তারই প্রতিবাদে কয়েকজন স্থানীয় যুবক গত ১৪ই জুন স্কুলে ঢুকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। নজ়রুল সাহেবের অভিযোগ, ওই যুবকরা হরিশ্চন্দ্রপুর থেকে বেশ কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে আসে। স্কুলের ভিতরে ঢুকে তাঁকে মারধর করে। এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয়। পুলিশকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করেন। রাতে তাঁর স্ত্রী ১৩ জনের বিরুদ্ধে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে থানা সূত্রে খবর, গতরাতে ওই যুবকদের পক্ষ থেকেও নজরুল সাহেবের বিরুদ্ধে এলাকায় ধর্মীয় উস্কানি ছড়ানোর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দুই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
নজ়রুল সাহেবকে স্কুলে ঢুকে নিগ্রহের ঘটনায় বুধবার রাতে তুলসীহাটায় বৈঠকের আয়োজন করে একটি গোষ্ঠী। আইনের আশ্রয় না নিয়ে একজন শিক্ষককে কেন স্কুলে ঢুকে মারধর করা হল, তা নিয়ে বৈঠক উত্তপ্ত হয়। সেই বৈঠকের খবর যায় অপর গোষ্ঠীর কাছেও। দুই গোষ্ঠী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মুখোমুখি সংঘর্ষের সিদ্ধান্ত নেয়। খবর পায় পুলিশ। সকাল থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী নামিয়ে দেওয়া হয় এলাকায়। ছিল সশস্ত্র RAF। কিন্তু, তার মধ্যেই দুই গোষ্ঠী একে অন্যের উপর হামলা চালায়। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে মিঠুন সিংহ নামে ২৩ বছরের এক যুবকের আঘাত গুরুতর।