hindu-familiesনওগাঁর মান্দা উপজেলার পিড়াকৈর হিন্দুপলি্লতে বাঁশের বেড়া দিয়ে মন্দির চত্বরের জমি দখল, রাস্তা বন্ধ করে রাখার ঘটনায় ৩৪টি হিন্দু পরিবার আতঙ্কিত হয়ে জীবনযাপন করছেন। এছাড়াও হিন্দু বাড়িতে হামলা-মারপিট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্রমেই আতঙ্কিত হয়ে উঠছে তারা। হিন্দু সম্প্রদায় পল্লীর বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশের অসহযোগিতা ও গাফিলতির কারণে তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। এ অবস্থায় সম্প্রদায়ের লোকজনদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে তাদের।
ওই পল্লীর বাসিন্দাদের অভিযোগ, মন্দির চত্বরের সাড়ে ৭ শতক জমি নিয়ে গ্রামের শ্রীমন্ত সাহা মংলার সঙ্গে মাদরাসা শিক্ষক হাবিবুর রহমানের বিরোধ চলে আসছিল। গত ২৮ এপ্রিল হাবিবুর রহমান ওই সম্পত্তি জবরদখল করে বাঁশের খুঁটির সাহায্যে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধসহ মন্দির চত্বর বেড়া দিয়ে ঘিরে দেন। এতে গ্রামের ৩৪ হিন্দু পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পরে এ ঘটনায় ২৮ এপ্রিল থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
স্থানীয়রা জানান, গত ৭ মে বিকেলে শ্রীমন্ত সাহার ছেলে রিতেন সাহা ধান মাড়াইয়ের মেশিন বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় হাবিবুর রহমানের দেওয়া বেড়ার কিছু অংশ ভেঙ্গে যায়। এর জের ধরে হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে ভাই মনিরুল ইসলামসহ ৯-১০ জন সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে রিতেন সাহার (২৮) ওপর হামলা চালায়। এ সময় বাধা দেওয়ায় রিতেন সাহার মা সপ্তমী রানী সাহা (৬০), স্ত্রী ছন্দা রানী সাহা (২১), ভাবি লক্ষ্মী রানী সাহা (৩০) ও ভাতিজি বৃষ্টি রানী সাহাকে (১৩) পিটিয়ে জখম করে হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভুক্তভোগি শ্রীমন্ত সাহা জানান, গত ৭ মে হামলা ও মারপিটের ঘটনায় ছেলে প্রদীপ সাহা বাদি হয়ে হাবিবুর রহমানসহ ১২জনের বিরুদ্ধে থানায় আরো একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে টালবাহান করে পুলিশ। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত ৮ই মে, বৃহস্পতিবার আসামিরা আদালত থেকে জামিন নেয়। জামিনে এসে তার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্নভাবে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন হাবিবুর মাষ্টার। তিনি দাবি করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে হাবিবুর মাষ্টার ও তার লোকজন শনিবার (১০মে) রাতের অন্ধকারে বসতবাড়িতে আগুন দিয়ে তাদের পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে। ছোট ছেলে রিতেন সাহাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে মাষ্টার পক্ষের লোকজন।
এ অবস্থায় চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে তাদের। তার অভিযোগ, পুলিশ সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এ অবস্থার সৃষ্টি হত না। পুলিশের ওপর আস্থা না থাকায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গত ১২ই মে, সোমবার নওগাঁ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় চেয়ারম্যান ব্রজেন্দ্রনাথ সাহা জানান, থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় গত বুধবার (১৪ই মে) বিকেলে বাধ্য হয়ে মন্দির চত্বরে দেওয়া বেড়াটি গ্রামপুলিশ দিয়ে সরিয়ে গ্রামবাসির চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, শ্রীমন্ত সাহার বসতবাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এর সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। এ দিকে পিড়াকৈর গ্রামে হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা-মারপিট ও অগি্নসংযোগের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক প্রবীন কুমার দাস। তবে পুলিশের অসহযোগিতা ও গাফলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, শ্রীমন্ত সাহার বাড়িতে অগি্নসংযোগের ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। শ্রীমন্ত সাহা ও হাবিবুর মাষ্টারের বিরোধকে কাজে লাগিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষ ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে কি-না তদন্তে সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবিলম্বে জড়িতদের আইনের আওতায় নেওয়া হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।