14ক্লাস নাইনের এক ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করল পুলিশ। ঘটনাটি কালিয়াচক দু’নম্বর ব্লকের রথবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি গ্রামের। মোথাবাড়ি ফাঁড়ির পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। এই ঘটনায় এলাকার এক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে মৃত ছাত্রীর পরিবার। তাদের অভিযোগ, ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুন করেছে এলাকারই যুবক রেজাউল শেখ।
ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি স্কুলে ক্লাস নাইনে পড়ত। গত ২৩ জুন মোথাবাড়ি ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ করে সে জানায়, আগের দিন রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ রেজাউল বাড়ির সামনে এসে তাকে ডাকে। বাড়ির বাইরে আসতে বলে। তার কথামতো বাড়ির বাইরে এলে রেজাউল ছুরি দেখিয়ে তাকে সেখান থেকে একটু দূরে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে। ঘটনার কথা কাউকে জানালে তাকে খুন করারও হুমকি দেয় রেজাউল। গভীর রাতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। তখন স্থানীয় একটি মাঠ থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ছাত্রীকে। পরদিন সে নিজেই রেজাউলের বিরুদ্ধে মোথাবাড়ি ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, থানায় অভিযোগ দায়েরের পর থেকে রেজাউল ধর্ষিতা ও তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছিল। অভিযোগ তোলার জন্য বারবার চাপও দিতে থাকে। আজ সকালে বাড়ির একটি ঘরে ওই ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে পুলিশকর্মীরা এসে দেহটি উদ্ধার করেন।
ওই ছাত্রীর এক আত্মীয়ের দাবি, আত্মহত্যা নয়, তাঁদের মেয়েকে খুন করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, থানায় FIR দায়েরের পর থেকে রেজাউল ও তার দলবল অভিযোগ তুলে নেওয়ার চাপ দিয়ে প্রতিদিনই ছাত্রীর বাবা-মাকে মারধর করত। ভয়ে কয়েকদিন থেকেই ওই ছাত্রীর ৪ ভাইবোন ওই আত্মীয়র বাড়িতে রয়েছে। বাবা-মায়ের সঙ্গে বাড়িতে থাকত শুধু ছাত্রীটি। অভিযোগ, আজ সকালে রেজাউল ফের দলবল নিয়ে সেখানে চড়াও হয়। তাদের হাতে পিস্তল, ছুরি ছিল। দরজা ভেঙে ঘরের ভিতরে ঢোকে তারা। এরপর শ্বাসরোধ করে খুন করার পর ওই ছাত্রীকে ঝুলিয়ে দিয়ে চলে যায়।
এই ঘটনায় পুলিশকেও দায়ি করেছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্য, ধর্ষণের অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ রেজাউলকে গ্রেপ্তার করতে কোনও সদর্থক ভূমিকা নেয়নি। যদিও এনিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেনি মোথাবাড়ি ফাঁড়ির পুলিশ। তারা জানিয়েছে, এক ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত যুবকের খোঁজ চলছে।