for blogএটা অত্যন্ত লজ্জার ও দুঃখের যে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্ব শওকত মোল্লার হাতে পুরো দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার একছত্র ক্ষমতা তুলে দিয়েছেন। এবং তা প্রবীণ নেতা জয়ন্ত নস্করকে উপেক্ষা করে।
এই শওকত মোল্লা কে ????
যে ৩০ বছর ধরে লাল ঝান্ডা হাতে নিয়ে সম্পূর্ণ জীবনতলা এলাকায় হিন্দুদের উপর, বিরোধীদের উপর, কংগ্রেস-তৃণমূলের উপর অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছিল।
যে শওকত মোল্লার অত্যাচারে মৌখালী গ্রামের ৭০ টি হিন্দু পরিবার বিরোধী দল করার অপরাধে গ্রাম ছাড়া হতে বাধ্য হয়েছিল।
যে শওকত মোল্লার কুখ্যাত “কারগিল টীম” (মোটরবাইক বাহিনী) সম্পূর্ণ এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছিল।
যে কার্গিল টীম দিয়ে এলাকার সমস্ত ফিশারি থেকে শওকত মোল্লা তোলা তুলত। প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা।
প্রতি মাসে ১ তারিখে ক্যানিং থানায় ২ লক্ষ টাকা জমা পড়ত থানা কন্ট্রোলের জন্য। মনে রাখবেন, তখনও জীবনতলা থানা আলাদা হয়নি। ক্যানিং থানার আন্ডারে ফাঁড়ি ছিল।
যে শওকত মোল্লা দীর্ঘদিন সিপিএম-এর ক্যানিং-২ ব্লকের “পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি” ছিল।
যে শওকত মোল্লা যতদিন ক্ষমতায় ছিল, ক্যানিং ও তালদি থেকে জীবনতলা ফাঁড়িতে যাওয়ার রাস্তা পর্যন্ত করতে দেয়নি যাতে সাধারণ মানুষ তাড়াতাড়ি ফাঁড়িতে পৌঁছাতে না পারে।
যে শওকত মোল্লা সিপিএম আমলের অসংখ্য খুনের মামলায় অভিযুক্ত।
যে শওকত মোল্লার তৃণমূলে ঢোকা ২০১১ সালে ক্ষমতা পরিবর্তনের পরও “দিদি দীর্ঘদিন আটকে রেখেছিলেন” তার ওই সমস্ত অপকীর্তির জন্য। তারপর মুসলিম লবির চাপে নিতে বাধ্য হন। অবশ্য সবাই জানে, ওপেন সিক্রেট, শওকত মোল্লা উপযুক্ত স্থানে ৫০ লক্ষ টাকা প্রণামী চড়িয়েছিল তৃণমূলে ঢুকতে।
সেই শওকত মোল্লার হাতে আজ তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার সব ক্ষমতা তুলে দিলেন? এটা কি শুধুই টাকার মাহাত্ম্য? নাকি শওকত মোল্লার এই ইতিহাস, এইসব অপকীর্তি সম্বন্ধে অজ্ঞানতা?
বাসন্তী থানা এলাকায় তৃণমূলের যত গোষ্ঠী সংঘর্ষ চলছে, যত খুনোখুনি চলছে, গোটা রাজ্যে আর কোনো থানায় এত নেই। এই গোষ্ঠী সংঘর্ষ থামানোর জন্য এই মাত্র কয়েকদিন আগে রাজ্য নেতৃত্ব শওকত মোল্লাকে (তার বাড়ি জীবনতলা, সে জীবনতলার এম এল এ) বাসন্তী থানা এলাকায় ঢুকতে নিষেধ করেছেন। আমরা সংবাদ মাধ্যমে তা জেনেছি। কিন্তু সেই নিষেধ কে ডোন্ট কেয়ার করে ২৯ জুন সে বাসন্তী থানায় গিয়ে বসেছিল। এবং থানা কন্ট্রোল করছিল। সেই সিপিএম আমলের মত। রাজ্য পুলিশের জন্য এটা লজ্জার বিষয় নয়?
তৃণমূল রাজ্য নেতৃত্ব কি এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল যে তাঁদের আদেশ শওকত মোল্লা পরোয়া করে না !
শ্রদ্ধেয় বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা জয়ন্ত নস্কর ১৯৯৮ সালে তৃণমূলের জন্মদিন থেকে তৃণমূলে আছেন এবং দিদির নেতৃত্বে একনিষ্ঠ সৈনিক হিসাবে অনেক সংগ্রাম করে বাসন্তী, গোসাবা (কুখ্যাত সিপিএম গুন্ডা হাকিম মোল্লার রাজত্ব ছিল) ও ক্যানিং এলাকায় বামফ্রন্টকে উচ্ছেদ করেছেন। আর অন্যদিকে শওকত মোল্লা! বামফ্রন্ট জমানার শেষ দিন পর্যন্ত লালঝাণ্ডা হাতে নিয়ে গুন্ডামি করেছে ও টাকা কামিয়েছে।
সেই শওকত মোল্লা আজ তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে প্রিয় হয়ে গেল! আর সংগ্রামী অনুগত জয়ন্ত নস্কর অপাংক্তেয় হয়ে গেলেন?
তৃণমূল রাজ্য নেতৃত্ব কি আবার সেই সিপিএমের বিভীষিকাময় দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে চাইছেন?
তাঁদেরকে অনুরোধ করব, একটু ভেবে দেখুন। একটু ভেবে দেখুন।
অনেক রিস্ক নিয়ে আমি এই পোস্ট দিচ্ছি। কারণ এই পোস্ট দেওয়ার পর জীবনতলা এলাকায় আমাদের হিন্দু সংহতি কর্মীদের প্রাণ সংশয় হতে পারে। তাদের বাড়ি আক্রান্ত, লুঠ হতে পারে। তবু সম্পূর্ণ দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার হিন্দুদের স্বার্থে, দেশের অখণ্ডতার স্বার্থে এই পোস্ট দিলাম।
তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব ও রাজ্য পুলিশের উচ্চ পদাধিকারীদের আমি অনুরোধ জানাচ্ছি, জীবনতলা এলাকায় হিন্দু সংহতি কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য।