কেরলে খুনের ঘটনায় হিলিতে গ্রেপ্তার বাংলাদেশী সুপারি কিলার মহম্মদ মামুন

কেরলে যুবক খুনের ঘটনায় হিলিতে পুলিশের হাতে ধরা পড়ল বাংলাদেশী সুপারি কিলার। অনুপ্রবেশকারী হিসাবে গ্রেপ্তার হলেও ইন্টারনেট তথ্যে কেরল পুলিশ চিনতে সক্ষম হয় সেই সুপারি কিলারের নাম। বালুরঘাট জেলা সংশোধনাগারে সেই সুপারি কিলারকে জিঞ্জাসাবাদ করতেই বৃহস্পতিবার দুজনের একটি টিম আসে বালুরঘাটে। শুক্রবার সকাল থেকে জেলা সংশোধনাগারে শুরু হয় ওই সুপারি কিলারকে জিজ্ঞাসাবাদ। উঠে আসে একাধিক তথ্য। বাংলাদেশী ওই কিলার সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে কেরল পুলিশের আরও একটি বিশেষ টিম বালুরঘাটে আসছে বলে সূত্রের খরব। পুলিশ জানায়, ধৃত ওই সুপারি কিলারের নাম মহঃ মামুন। বাংলাদেশের চাপাই নবাবগঞ্জ জেলার গোমঠাপুর থানার তেতুলতলা গ্রামের বাসিন্দা। অক্টোবর মাসের মাঝামাঝিতে অবৈধভাবে হিলি সীমান্ত পার হয়ে কেরলে যায় বাংলাদেশী ওই যুবক। সেখানে বেশকিছু দিন থাকার পরে ইরটুপিট্টা থানা এলাকার বাসিন্দা এক যুবককে নৃশংস ভাবে খুন করে বাংলাদেশী এই সুপারি কিলার বলে অভিযোগ। এরপরেই খুনের ঘটনা নিয়ে তদন্তে নামে কেরলের পুলিশ। এদিকে বাংলাদেশী ওই সুপারি কিলার নভেম্বরের ১ তারিখে ফের হিলি দিয়ে বাংলাদেশে যাবার গোপন ভাবে চেষ্টা করছিল। যে সময় পুলিশের জালে ধরা পড়ে যায় সে। হিলি থানার পুলিশ অনুপ্রবেশকারী হিসাবে তাকে আদালতে পাঠিয়ে দিলেও ওই খুনের ঘটনার কোন তথ্যই তারা জানতে পারেনি। এদিকে ইন্টারনেটে হিলি পুলিশের আপলোড করা ওই বাংলাদেশী যুবকের ছবি ও তার তথ্য নজরে আসে কেরল পুলিশের। বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশের সাথে আলোচনা করেই বৃহস্পতিবার একটি টিম বালুরঘাটে এসে পৌঁছায়। যার পরিপ্রিক্ষেতে শুক্রবার সকাল থেকে অনুপ্রবেশকারী হিসাবে থাকা বাংলাদেশী ওই সুপারি কিলারকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে কেরল পুলিশ। সুপারি দিয়েই কেরলের ওই যুবককে যে খুন করা হয়েছিল সে সম্পর্কেও বেশকিছু তথ্য হাতে পেয়েছে কেরল পুলিশ। যদিও এই সম্পর্কে তারা কিছু সংবাদমাধ্যমকে বলেন নি।

হিলি থানার ওসি সঞ্জয় মুখার্জী জানিয়েছেন, বাংলাদেশী হিসাবে ওই যুবক ধরা পড়লেও তার আসল ঘটনা কেরল পুলিশের কাছ থেকে জানা সম্ভব হয়েছে । কেরলের একটি খুনের ঘটনায় জড়িত ওই যুবককে এদিন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে কেরল পুলিশ ।

Advertisements

হিন্দুদের হুমকির ঘটনা বাংলাদেশের পিরোজপুর সদর উপজেলায়, বহু হিন্দু এলাকাছাড়া

পিরোজপুর সদর উপজেলার সিকদার মল্লিক ইউনিয়নের দক্ষিণ সিকদার মল্লিক গ্রামের বাসিন্দা দেবাশীষ মাঝি ৪ জুন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের পর থেকে ঘরছাড়া। এলাকায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের লোকজন তাঁকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অজ্ঞাত স্থানে বসে মুখোমুখি আলাপচারিতায় দেবাশীষবাবু বলেন, ‘ভোটের পর এক দিনও বাড়িতে ঘুমাইনি। মা বলছে দেশ ছেড়ে পালিয়ে বেঁচে থাক। আসলেই কি আমরা এই দেশে থাকতে পারব না?’

একই প্রশ্ন করেছেন ওই ইউনিয়নের কৃষ্ণেন্দু হালদার, সন্তোষ বৈরাগী, নয়ন মাঝি, রিপন মণ্ডলসহ আরও অনেকে। এই ইউনিয়নের হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে বলছেন, ৪ জুন সর্বশেষ দফা ইউপি নির্বাচন আতঙ্ক হয়ে এসেছে হিন্দু-অধ্যুষিত সাতটি গ্রামে। নির্বাচনের পর থেকে গত তিন সপ্তাহে অর্ধশত হিন্দু ব্যক্তি হুমকি ও মারধরের শিকার হয়েছেন। পুরুষদের মধ্যে অনেকেই ভয়ে এলাকাছাড়া।

সিকদার মল্লিক ইউনিয়নের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পান সদ্য ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য হওয়া শহীদুল ইসলাম হাওলাদার। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান সিকদার ছিলেন বিদ্রোহী প্রার্থী। হিন্দুরা জানান, নির্বাচনে শহীদুল চেয়ারম্যান হলেও হিন্দু-অধ্যুষিত ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কামরুজ্জামান জয়ী হন। এরপর থেকে এই চার ওয়ার্ডের সিকদার মল্লিক, দক্ষিণ সিকদার মল্লিক, নন্দীপাড়া, উত্তর গাবতলা, দক্ষিণ গাবতলা, জুজখোলা ও পূর্ব জুজখোলা গ্রামে হিন্দুদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা ও ইউনিয়নের হিন্দু নেতারা বলছেন, শহীদুলের বাবা রফিকুল ইসলাম ওরফে রুনুও দুবার এই ইউপির চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচপাড়া বাজারের কালীমন্দিরের জায়গা দখলসহ হিন্দু ব্যক্তিদের নির্যাতনের অভিযোগ আছে। এসব কারণেই হিন্দুদের একটি বড় অংশ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কামরুজ্জামানকে ভোট দেন। এতেই ক্ষুব্ধ হন শহীদুল। তবে তিনি এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেছেন।

পিরোজপুর জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘সিকদার মল্লিক ইউনিয়নের হিন্দু লোকজন গত তিন সপ্তাহে হামলা, হুমকি, মারধরের ১০৯টি ঘটনার কথা আমাকে জানিয়েছে। আমি পুলিশ প্রশাসনকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছি।’

পরাজিত প্রার্থী কামরুজ্জামান সিকদার বলেন, ‘১, ২, ৩ ও ৪—এই চারটি ওয়ার্ডই হিন্দু-অধ্যুষিত। এর প্রত্যেকটায় আমি জয়ী হয়েছি। কিন্তু বাকি পাঁচটি ইউনিয়নে শহীদুল জয়ী হন। হিন্দুরা কেন আমাকে ভোট দিল, সে কারণেই নির্বাচনের দিন থেকেই হিন্দুদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

এলাকায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ৪ জুন নির্বাচনের দিন হামলার শিকার হন সিকদার মল্লিক গ্রামের সন্তোষ বৈরাগী।সন্ধ্যায় গাবতলা স্কুলের কাছেই চিত্ত বড়াল, রতন খাঁ, সচীন শিকদার, সুকুমার সিকদার ও প্রবীণ মণ্ডলকে মারধর করা হয়। এ ছাড়া সিকদার মল্লিক গ্রামের অমূল্য মিস্ত্রির বাড়িতেও হামলা হয়। এসব ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ওই রাতেই এলাকার কয়েকটি হিন্দু পরিবার বাড়ি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বাগান ও মাছের ঘেরে আশ্রয় নেয়।

হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন জানান, নির্বাচনের পরদিন ৫ জুন দক্ষিণ গাবতলা গ্রামের আকুল মিস্ত্রি, কুমুদ মাঝি, সোনা মিস্ত্রি ও অসীম মাঝিকে হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৬ জুন ভবতোষ মণ্ডল, ৭ জুন নির্ঝর মণ্ডলকে হুমকি দেওয়া হয়। ২০ জুন জুজখোলা মিরুয়া গ্রামের হ্যাপি ঘরামির কাপড়ের দোকান দখল করে ক্লাব করতে যায় চেয়ারম্যানের লোকজন। বাধা দিলে হ্যাপি ও তাঁর স্বামী বিমল ঘরামিকে মারধর করা হয়।

পিরোজপুর সদর থানার ওসি এস এম মাসুদ উজ জামান গতকাল বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’ নির্যাতন ও হুমকির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে শহীদুল ইসলাম এসব ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, ‘এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।’

 

বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার পলাতক আসামি আল আমিন ভারতে আছে বলে তার বাবা মনে করেন

biswajit-hotta-mamla-bangladeshবাংলাদেশে বহুল আলোচিত বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের একজন মাদারীপুরের আল-আমিন শেখ। পলাতক এই আসামি এখন কলকাতায় অবস্থান করেছে বলে জানা গেছে। মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামের আক্কাস আলী শেখের ছেলে আল-আমিন।

সাতবাড়িয়া গ্রামের পাশের গ্রাম হাসানকান্দির এক বাসিন্দা সম্প্রতি কলকাতায় ঘুরতে গিয়ে আল-আমিনের সঙ্গে দেখা হয়। এরপর গ্রামে ফিরে এসে তিনি এলাকাবাসীকে বিষয়টি জানান।

আল-আমিনের ব্যাপারে তার বাবা আক্কাস আলী বলেন, ‘আমার ছেলে কোথায় আছে, তা জানি না। তবে তার সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছে। মোবাইলে যে নম্বর দিয়ে কথা বলে তা বিদেশি নম্বর। তবে তা কোন দেশের নম্বর তা জানি না।’

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আল-আমিনের পরিবার খুবই দরিদ্র। এলাকায় সে মেধাবী হিসেবেই পরিচিত ছিল। এলাকার লোকজন তাকে তেমন একটা চেনেও না। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের পর আল-আমিন একবার গ্রামের বাড়িতে আসে। এরপর তাকে আর দেখা যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানায়, আল-আমিন কলকাতায় আছে। সে কলকাতার সিটি সেন্টার নামে একটি শপিং মলে চাকরি করে।

সাতবাড়িয়া এলাকার মেম্বার শাখাওয়াত হোসেন জানান, আল-আমিন বিদেশে পালিয়ে গেছে। কিন্তু কোন দেশে আছে তা কেউ নিশ্চিত জানে না।

মাদারীপুর জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার দেব জানান, যে কোনও আসামির সাজা হওয়ার পর সাজা ওয়ারেন্ট সংশ্লিষ্ট থানায় আসে। পুলিশের পক্ষ থেকে তা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়। আল-আমিন শেখের বিষয়টি মাদারীপুর জেলা পুলিশ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। তার অবস্থানের ব্যাপারে পুলিশের কাছে কোনও তথ্য নেই। তবে তাকে জেলার মধ্যে যেখানেই পাওয়া যাবে গ্রেফতার করা হবে।

কোটি টাকার হেরোইন সমেত ২ কারবারিকে গ্রেপ্তার করল সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ

ক্রেতা সেজে এক কোটি টাকার হেরোইন সমেত দু’জনকে গ্রেপ্তার করল সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ। বুধবার রাতে বাসুদেবপুর বাসস্ট্যান্ড চত্বর থেকে ওই হেরোইন কারবারিদের পাকড়াও করা হয়। ধৃতদের নাম মহম্মদ মজিবুর রহমান ও আনিকুল ইসলাম ওরফে সাদিকুল ইসলাম। দু’জনেরই বাড়ি লালগোলা থানা এলাকায়। ধৃতদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারচক্রের যোগাযোগ আছে বলেই পুলিশের সন্দেহ। বৃহস্পতিবার জেলার বিশেষ আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতদের সাতদিন পুলিশ হেপাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ সুপার মুকেশ কুমার বলেন, ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের সঙ্গে আর কারা জড়িত আছে তা জানার চেষ্টা চলছে।

বুধবার বিকাল থেকে বাসুদেবপুর বাসস্ট্যান্ড চত্বরে জাল বিছিয়ে রেখেছিল পুলিশ। গত ৮ই নভেম্বর, বুধবার রাত সাড়ে ৭টা নাগাদ বাস থেকে নামতেই মজিবুর ও আনিকুলকে ধরা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন সামশেরগঞ্জ থানার ওসি অমিত ভকত। থানার এক অফিসার বলেন, কয়েকদিন আগে গোপনভাবে ধৃতদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সেই সময় হেরোইন কেনার জন্য ধৃতদের ৩০হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। তখন থেকেই তাদের উপর নজর রাখা হচ্ছিল। পূর্ব কথা মতো হেরোইন কারবারিরা দু’টি বাজারের ব্যাগ নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে আসে। সেখানে মোতায়েন সাদা পোশাকের এক পুলিশ অফিসারের কাছে যায় ওই কারবারিরা। তারা হেরোইনের নমুনা দেখিয়ে বাকি টাকা দাবি করে। তখন তাদের ঘিরে ধরেন অন্য পুলিশ অফিসাররা। বেগতিক বুঝে কারবারিরা পালানোর চেষ্টা করে। পিছু ধাওয়া করে তাদের পাকড়াও করা হয়। ধৃতদের কাছে থাকা ব্যাগ থেকে ১কেজি ৩৫০গ্রাম হেরোইন উদ্ধার হয়েছে। যার বাজার মূল্য ১কোটি টাকা। এছাড়া, ধৃতদের কাছ থেকে দু’টি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৮হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লালগোলা থানার নবপল্লিতে মজিবুর এবং পন্ডিতপুরে আনিকুলের বাড়ি। এরা দীর্ঘদিন ধরেই হেরোইনের কারবারের সঙ্গে জড়িত। জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, বহুদিন ধরেই ওদের ধরার চেষ্টা চলছিল। ধৃতদের নেটওয়ার্ক দার্জিলিং, কলকাতা, মালদহ, বাংলাদেশ প্রভৃতি এলাকায় ছড়ানো রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সৌদিতে বাংলাদেশি নারীকে পৈশাচিক নির্যাতন

সৌদি আরবে বাংলাদেশি এক নারী গৃহকর্মী পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ওই গৃহকর্মী ফেরার পথে রিয়াদ বিমানবন্দরে তাকে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশি দূতাবাস বিষয়টির তদন্ত করছে।

ভাইরাল হওয়া ওই ইউটিউব ভিডিওর তথ্য অনুযায়ী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে। তাতে বলা হয়েছে, সাত মাস আগে গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে গিয়ে নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে দেশে ফিরেছেন। সম্প্রতি রিয়াদ বিমানবন্দরে উড়োজাহাজে বসে এক আরবকে ওই নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। তার বক্তব্য ভিডিও করেছেন ওই আরব। ভিডিওতে ওই নারীর এক হাতে ক্ষতচিহ্ন, আরেক হাতে গোটা গোটা ফোস্কা দেখা যায়। এক প্রশ্নের জবাবে ওই নারী বলেন, সৌদি আরবে কাজে আসার পর প্রতিদিন তাকে ছয় থেকে সাতবার গরম কিছু দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়া হত। ওই ছ্যাঁকাতেই হাতে ফোস্কা হয়েছে।

কেন নির্যাতন করা হত জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কারোর সঙ্গে, বিশেষ করে স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে মালিক দিত না। দেশে ফিরতে চাইলে নির্যাতন করা হত। এভাবে নির্যাতনের পর সৌদি মালিক তাকে বিমানবন্দরে রেখে চলে যায়। এই কয় মাসে তাকে কোনো বেতন দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিমানবন্দরে রেখে যাওয়ার সময় বেতন নিয়েছেন মর্মে স্বাক্ষর নিয়ে গেছেন মালিক। ভিসা ও পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, নির্যাতিত ওই বাংলাদেশি নারীর বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়।

তিনি গত ২২জানুয়ারিতে সৌদি আরব যান। সৌদিতে তার নিয়োগকর্তা আজিজা নাশহাত মোহাম্মদ আলী কাকা। এই বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর সরওয়ার আলম বলেন, ‘আমরা ওই নারীকে নির্যাতনের ভিডিও সম্পর্কে জেনে তদন্ত শুরু করেছি। আমরা বাংলাদেশ এবং সৌদি আরব দু’জায়গায়ই যোগাযোগ করেছি। আমরা এখন ওই নারী গৃহকর্মীর বক্তব্য গ্রহণ করব।’ তিনি বলেন, ‘তিনি এখন বাংলাদেশেই তার গ্রামের বাড়িতে আছেন। তার বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। আর আমরা সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি।’ সৌদি আরবে বাংলাদেশি গৃহকর্মী নির্যাতনের আরও অভিযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু অভিযোগ এর আগেও পেয়েছি।’ চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় সাংবাদিক জানান, নির্যাতিত ওই নারীর নাম সালমা। তিনি গ্রামে ফিরে আসার পর তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরে নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তিনি শুধু বলেছেন আমার ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তা বললে আপনারা স্তব্ধ হয়ে যাবেন।’

সৌদি আরব এ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৮০ হাজারের মতো নারী গৃহকর্মী নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ বা ৪০ হাজার নারী গৃহকর্মীকে ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। নিয়োগকারীরা কারণ হিসেবে তাদের কাজে অনীহার কথা বললেও একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, ‘বাংলাদেশি গৃহকর্মীদের কাজে অনীহার কারণ ভিন্ন। তারা নির্যাতনের শিকার এবং তাদের বেতনও খুব কম দেওয়া হয়।’

গত বছর রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, তিনটি কারণে নারী গৃহকর্মীরা তাদের কাজ ছেড়ে পালাচ্ছেন। কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, গৃহকর্মীদের দিয়ে কঠিন কাজ করানো, গৃহকর্মীদের নিজের বাড়ির প্রতি দুর্বলতা থাকা এবং গৃহকর্তার কাছ থেকে নানা দুর্ব্যবহার ও নির্যাতনের শিকার হওয়া।

তারাপীঠে একশো একর জমির ওপর তৈরি হচ্ছে ৫১ পীঠের প্রতীকী মন্দির, খরচ প্রায় ১০০ কোটি

tarapith-100-ekor-jomiদেশের নানান প্রান্ত, এমনকি বিদেশের মাটিতে (নেপাল, বাংলাদেশ, পাকিস্তান) ছড়িয়ে রয়েছে ৫১টি সতীপীঠ। সতীপীঠগুলি দর্শনের জন্য এই ৫১টি স্থানেই যদি ভক্ত ও পর্যটকরা যেতে না পারেন, তাহলেও রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সব সতীপীঠগুলির অন্তত একটা ছোঁয়া তারা পেয়ে যাবেন বীরভূমের বিখ্যাত তীর্থস্থান তারাপীঠে গেলেই। তারাপীঠ মন্দিরের কাছে প্রায় একশো একর জমিতে ৫১টি সতীপীঠের প্রতীকী মন্দির তৈরির পরিকল্পনা করেছে রামপুরহাট-তারাপীঠ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (আরটিডিএ)। অথরিটির চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, সতীপীঠগুলির মন্দিরের অনুকরণে তারাপীঠে মন্দির তৈরি করা হবে। এই প্রকল্পটি করার বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে।

সতীপীঠ ‘কমপ্লেকস’ নির্মাণের প্রথম পর্যায়ে এখন জমি সংগ্রহের উদ্যোগ চলছে। তারাপীঠ মন্দির থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে যেখানে একটি নতুন তোরণ তৈরি হয়েছে, তার কাছেই এটি গড়ে উঠবে। যে একশো একর জমি লাগবে তা সরকারের কাছেই রয়েছে। জমির মালিক বন দপ্তর। ফলে জমি অধিগ্রহণ বা মালিকের কাছ থেকে কেনার কোনও ঝামেলা নেই। আশিসবাবু জানিয়েছেন, জমি চেয়ে বন দপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কতটা জমি পাওয়া যায় সেটা আগে দেখা যাক। প্রকল্পের প্রাথমিক নকশা তৈরি করে ফেলেছে আরটিডিএ। সংস্থার ভাইস-চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সতীপীঠের মন্দিরগুলি যে আদলে রয়েছে, প্রতীকী মন্দির ঠিক সেরকম করা হবে। শুধু তাই নয়, যে ধরনের প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে মন্দিরটি রয়েছে সেটা কৃত্রিমভাবে এখানে তৈরি করা হবে। যেমন সতীপীঠ কামাখ্যাদেবীর মন্দির পাহাড়ের উপর। তারাপীঠেও ছোট কৃত্রিম পাহাড় তৈরি করে সেখানে ক্যামাখাদেবীর প্রতীকী মন্দির হবে। সতীপীঠ হিংলাজ পাকিস্তানের বালুচিস্তানের মরুভূমিতে অবস্থিত হওয়ায় এখন ইচ্ছা থাকলেও ভক্ত ও পর্যটকদের সেখানে যাওয়ার বিশেষ সুযোগ নেই। গুহার মধ্যে অবস্থিত হিংলাজ মন্দিরও তারাপীঠে করার পরিকল্পনা আছে। তবে এই প্রকল্পে খরচ হবে বিস্তর। আরটিডিএ কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে মনে করছে প্রায় একশো কোটি টাকা খরচ হতে পারে। তবে বিপুল খরচ হলেও রাজ্য সরকারের কাছ থেকে তা পাওয়ার ব্যাপারে তাঁরা আশাবাদী বলে জানিয়েছেন সুকুমারবাবু। প্রসঙ্গত, যে তারাপীঠে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেটি কিন্তু সতীপীঠ নয়। তারাপীঠ হল একটি ‘সিদ্ধপীঠ’। বীরভূম জেলাতে অবশ্য পাঁচটি সতীপীঠ আছে।

আরটিডিএ-র উদ্যোগে এখন তারাপীঠ মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। মুনসুবার মোড় থেকে মন্দির পর্যন্ত চার কিলোমিটার রাস্তা সম্প্রসারণ করে চার লেন করা হবে। এক কোটি টাকা খরচ করে একটি তোরণ তৈরি হয়েছে। মুনসুবার মোড়ে আরও একটি বড় তোরণ তৈরি হবে। মন্দির চত্বর খোলামেলা করার জন্য ভোগমন্দিরসহ আরও কিছু জায়গা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এগুলিকে ভূগর্ভে নিয়ে যাওয়া হবে। ফলে মন্দির চত্বর অনেক খোলামেলা হবে। ভোগমন্দির নতুন করে নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। নতুন প্রায় দুশো দোকান-ঘর তৈরি করা হয়েছে। সাধুদের থাকার জন্য ঘর করা হয়েছে। শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লি বসবে। সেখানে জলের বিশেষ ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। বছর খানেকের মধ্যে মন্দির চত্বর একেবারে বদলে যাবে বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।

মালদায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৫ ডাকাত গ্রেপ্তার

malday-dakat-greptar-copy (1)ডাকাতির ছক ভেস্তে দিল পুলিশ। ডাকাতির আগেই পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার ৫ জনের ডাকাতদল। উদ্ধার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র সহ ধারালো অস্ত্র। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে গত ৮ই নভেম্বর, বুধবার অভিযান চালিয়ে অমৃতির বানিয়াজলা এলাকা থেকে ধৃতদের গ্রেফতার করে মালদার মিল্কী ফাঁড়ির পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধৃতরা হলেন আলাউদ্দিন শেখ(৩১), রফিক শেখ(২১), গোলাম নবি(৩০)। এই তিন দুষ্কৃতী ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। এছাড়া অপর ধৃতরা হলেন আজিজুর রহমান(৩০) মোথাবাড়ি থানার বাঙ্গীটোলা এলাকার বাসিন্দা এবং কুদ্দুস শেখ ইংরেজবাজার থানা এলাকার বাসিন্দা। ধৃতদের হেফাজত থেকে পুলিশ দুটি পাইপ গান, দুই রাউন্ড কার্তুজ সহ বেশ কিছু ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান ধৃতরা অমৃতি এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যেই জড়ো হয়েছিল। তবে তার আগেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায়। ধৃতদের বৃহস্পতিবার মালদা জেলা আদালতে পেশ করেছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ।

আলিপুরদুয়ারের রায়মাটাং চা বাগানে ছাত্রী নিখোঁজ, পাচার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা

আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি থানার অন্তর্গত রায়মাটাং চা বাগানের বাসিন্দা দশম শ্রেণির এক ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত ১নভেম্বর সকালে স্কুলে যায় কালচিনি হিন্দি হাইস্কুলের ওই ছাত্রীটি। কিন্তু আর বাড়ি ফেরেনি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। ছাত্রীর পরিবারের ধারণা মেয়ে নারী পাচারচক্রের খপ্পরে পড়তে পারে। কারণ ইদানিং চা বাগান এলাকায় নারীপাচার প্রচুর সংখ্যায় হচ্ছে। বেশ কিছুদিন আগেই এক নারীপাচারকারী সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ফলে পাচার হয়ে যাবার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এনিয়ে তারা কালচিনি থানায় সন্দেহভাজন একজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছে। পুলিশ সুপার আভারু রবীন্দ্রনাথন বলেন, রায়মাটাং চা বাগান থেকে এক স্কুল ছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে। ছাত্রীটিকে উদ্ধারে সব রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

অসমে বাঙালি হিন্দুরা হয়রানির শিকার

অসমে বাঙালি হিন্দুদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন সারা অসম বাঙালি যুবছাত্র ফেডারেশনের উপদেষ্টা চিত্ত পাল। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে বি জে পি সরকার রাজ্যে ক্ষমতাসীন হবার পর হিন্দু বাঙালিদের হয়রানি করা হচ্ছে। ১৯৭১-এর আগে আসা প্রকৃত ভারতীয়দের নানা ভাবে হয়রানি করে নাগরিকত্ব হরণের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে রাজ্য সরকার। নতুন ভাবে বিভিন্ন জেলার পুরনো হিন্দুদের বিদেশী সন্দেহে নোটিশ ধরিয়ে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। ডিমাও হাসাও জেলার লাংটিং সহ অন্যান্য গ্রামের বর্ডার পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে অযথা হয়রানি করছে। হোজাই জেলার লামডিং শহরে কয়েকশো হিন্দু পরিবারকে বিদেশী নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি দীপক দে জানান, অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত পঞ্চায়েতের নথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে কি না, সে ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট ১৫ই নভেম্বর চূড়ান্ত রায় দেবে। এই রায় যদি আমাদের বিপক্ষে যায়, তাহলে প্রায় ত্রিশ লক্ষ হিন্দু বাঙালি এবং মুসলমানদের নাম নাগরিকপঞ্জী থেকে বাদ পরবে। আগামী ৩১শে ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের আগে আসা নাগরিকদের নাম সন্নিবিষ্ট করে নতুন করে একটি নাগরিকপঞ্জীর খসড়া প্রকাশ পাবে। জাতীয়তাবাদী সংগঠন গুলো প্রকৃত বাসিন্দা বলে নাগরিকপঞ্জীতে শ্রেণী বিভাজন চাইছে। কিন্তু আমরা চাইছি ১৯৭১ সালের ২৪শে মার্চ অবধি আসা নাগরিকদের নাম সন্নিবিষ্ট করে একটা শুদ্ধ নাগরিকপঞ্জী প্রস্তুত করা হোক।
চিত্তবাবু বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বরাক উপত্যকায় এসে ২০১৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর অবধি আসা হিন্দু বাঙালিদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। যদিও বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের বি জে পি সরকার সেই প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী কাজ করছে। বাস্তবে, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের আগে আসা হিন্দু বাঙালিদের নানা ভাবে হয়রানি করে চলেছে। রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ নাগরিককে সন্দেহজনক বিদেশী বলে চিহ্নিত করেছে। এরইমধ্যে নব্বই শতাংশই হিন্দু বাঙালি নাগরিক। অসমে ৬-টি ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকাধীন নাগরিকদের মধ্যে আশি শতাংশ নাগরিক হিন্দু বাঙালি। এবং তাঁরা প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক।
তিনি জানান, ২০১৫ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে আগত সংখ্যালঘু শিখ, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ইত্যাদি সম্প্রদায়কে পরিত্রাণ দিতে ১৯২০ সালের পাশপোর্ট আইন এবং ১৯৪৬ সালের ফরেনার্স আইন থেকে তাদের রেহাই দিয়েছে।
প্রয়াত শিল্পী ডঃ ভূপেন হাজিরিকার নামে টালিগঞ্জের একটা পথের নামকরণ করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে আর্জি জানান তারা। একই সঙ্গে হিন্দু বাঙালিদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা গুলো নিয়ে অচিরেই জাতীয় মানবাধিকার কাউন্সিল সহ জেনিভায় রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনেরও দারস্থ হতে চায় ফেডারেশন বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশে ২০০১ সালে অক্টোবরের সেই রক্তাক্ত দিনগুলিঃ….

বাংলাদেশে ২০০১ সালে অক্টোবরের সেই রক্তাক্ত দিনগুলিঃ….

দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে গতকালের মতো আজও রাহুলরা চারজন বেরিয়ে গেল। আজ বেরিয়েছে খুব ভোরে। সূর্য ওঠার আগে। প্রাতরাশ করবে দৌলতখান বাজারে গিয়ে। সেখানে স্পট ভিজিট করে যাবে লালমোহনের উমেদচর গ্রামে। তারা দৌলতখানের লেজপাতা গ্রামে এল প্রথম। আনিসই তাদের এই গ্রামে প্রথম নিয়ে এল। লেজপাতা গ্রামের সরকার বাড়িতে তেরোটি হিন্দু পরিবার বাস করে। বাড়ির কোন পুরুষের গায়েই কাপড় নেই। সবাই গামছা পরিহিত। নতুন গামছা। বাজার থেকে বাকিতে আনতে হয়েছে। ঘরের কিছু তো রাখেনি, পরনের কাপড়ও লুট করে নিয়েছে। উলঙ্গ করে সরকার বাড়ির প্রতিটি পুরুষকে হকি স্টিক দিয়ে পিটিয়েছে নির্বাচনের পরদিন রাতে। এ বাড়ির সকলেই যখন ঘুমিয়েছিল, পঁচিশ থেকে ত্ৰিশজনের একটি দল এসে বিকট শব্দে বাড়ির উঠোনে বোমা ফাটায়। বোমার শব্দে বাড়ির সবার ঘুম ভেঙে যায়। পরেশচন্দ্ৰ মিস্ত্রীর স্ত্রী প্রভারানি রাহুলদের জানায়, বোমা বিস্ফোরণের পর সন্ত্রাসীরা ‘নারায়ে তাকবির – আল্লা হু আকবর’ ধ্বনি দিয়ে আমাদের দরজায় আঘাত করে। প্রভারানি পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে ঘরের পেছনের পুকুরে লাফিয়ে পড়ে শুধু নাক ওপরে রেখে বাকি সমস্ত শরীর জলে ডুবিয়ে নিজেকে বাঁচানোর  প্রাণপণ চেষ্টা করে। কিন্তু নরপশুরা টর্চলাইট মেরে চুল ধরে টেনে তোলে প্রভারানিকে। পুকুরের পাড়েই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ওরা। তার নাক-ফুলটি পর্যন্ত খুলে নিয়ে যায়। এসব বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে প্রভারানি। এই বাড়ির চার যুবতী মেয়ে বীণা, পলি, মিলন, শিপ্রা দৌড়ে হোগলাপাতার বনে গিয়েও ইজ্জত বাঁচাতে পারে নি, কাঁদতে কাঁদতে জানায় প্রভারানি। রিঙ্কু নামে পাঁচ বছরের একটি বাচ্চাকে দেখিয়ে বলে, ওর নাকের মাংস ছিড়ে নিয়ে গেছে নাক-ফুল লুট করার সময়। মৌলবাদী সন্ত্রাসীরা ভ্যান ও রিক্সা নিয়ে এসেছিল। বাবা-মায়ের সামনে কন্যাকে, স্বামীর সামনে স্ত্রীকে উলঙ্গ করে উল্লাস করেছে প্রথমে। তারপর ধর্ষণ করেছে, পর্যায়ক্রমে। যাবার সময় পনেরোটি ভ্যান ও রিক্সা ভর্তি করে সরকার বাড়ির তেরো পরিবারের তৈজসপত্র, বিছানা, কাপড়, সামান্য ধান-চাল যা ছিল সবকিছু নিয়ে যায়। এ বাড়ির দুই পরিবারের তিনটি গরু ছিল, তাও নিতে ভুল করেনি।

এখান থেকে রাহুল্যরা আসে। চরপাতা ইউনিয়নের অঞ্জুরানি মেম্বারের বাড়িতে। অঞ্জরানি চরপাতা ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্যা। কিন্তু সে বাড়িতে নেই। মুখোশ পরে একদল যুবক  নির্বাচনের ভোটকেন্দ্ৰে যাওয়ার চারদিন আগে অঞ্জুরানির ঘর থেকে টেলিভিশন ও অন্যান্য আসবাবপত্র লুট করে। তার পনেরোদিন আগে খুন হয়েছে অঞ্জুরানির বডিগার্ড। রাহুলদের এসব জানায় অঞ্জুরানি মেম্বার বাড়ির নিত্যহরি রায়। হাওলাদার বাড়ির বৃদ্ধা পুষ্পাঞ্জলি হাওলাদার তাদের জানায় সুপারিবাগান, বাড়িঘর সবকিছু লুট করা হয়েছে। গত পাঁচবছর তাদের মধ্যে কোনো ভয়, আতঙ্ক ছিল না। কিন্তু নির্বাচনের পরদিন থেকে এখানকার আওয়ামিলিগের নেতারা সব পালিয়ে গেছে। তারা উপস্থিত থাকলে আমাদের এত বড়ো ক্ষতি হত না।

চরদুয়ারি গ্রামের হিন্দুবাড়ির যুবতীদের ওপর একের পর এক নির্যাতন করা হয়েছে। সব কিছু হারিয়ে বাড়ির মেয়েরা প্রায় উন্মাদ। তারা বাড়ির দরজা খুলে আছে এবং একটি বাড়ির গেটে লিখে রেখেছে ‘যা খুশি কর। এই মেয়েদের সঙ্গে কথা বলার সাহস পেল না রাহুলরা। বারি অবশ্য কথা বলতে চেয়েছিল। কিন্তু আনিস থামিয়ে দিল। এর আগে সে এই এলাকা একবার ঘুরে গেছে। পুরুষ দেখলেই এই মেয়েরা উলঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়। তাদের উপর একদিন নয়, ধারাবাহিকভাবে পাশবিক অত্যাচার চালানো হয়েছে। তারা এখন উন্মাদ। বাইরের পুরুষদের দেখলে তারা আর ভীত হয় না। নরপশু তাদের শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলেছে। এজন্য বাইরের পুরুষ দেখলে তারা ভাবে নতুন কেউ এসেছে সেই ক্ষত আরও একটু বাড়ানোর জন্য।

পাগলের বেশে রাস্তায় হাঁটছে নূরজাহান বেগম। ওরা মোটরসাইকেল থামায়। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে নূরজাহান বলে, এসব কথা লিখবেন না। তাহলে ওরা আমাদের মেরে ফেলবে। অসিত বালার বাড়িতে কাজ করে নূরজাহান। বারো হাজার টাকা দিয়ে অত্যাচার থেকে রেহাই পেয়েছে। অসিত বালা। কিন্তু এই টাকার কথা কাউকে বললে তাদের সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। বালা বাড়িতে প্রতি বছর ধূমধামের সঙ্গে দুর্গাপূজা হয়। এবার পূজামণ্ডপ খালি। পূজামণ্ডপের সামনে ব্যথিত কুকুর কঁদছে। অসিত বালা বারো হাজার টাকা দিয়ে নিজে নির্যাতন থেকে বেঁচেছে বটে,  কিন্তু ও বাড়ির অন্যান্য শরিকদের কেউ রেহাই পায়নি। অসিত
বালা নির্বাচনের আগে বাড়ির মেয়েদের মির্জাকালুর শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিল। নূরজাহান তার রান্নাবান্নার কাজ করে দিত। অসিত বালা রক্ষা পেলেও তার কাজের মেয়ে নূরজাহান রক্ষা পায়নি। তারপর থেকেই সে পাগলের মতো রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। নিজের কথা কিছুই বলে না। শুধু সাংবাদিক শুনলে বলে, এসব কথা লিখবেন না। ওরা আমাদের মেরে ফেলবে।

আনিস জানায় এবার আমরা চরকুমারী গ্রামে যাব।অক্টোবরের দুই তারিখে নির্বাচনের পরদিন রাতে কী ঘটেছিল সে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে চরকুমারী গ্রামের মধ্যবয়সী নেপাল রায়। গ্রামের তেলি বাড়িতে বসে সে ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিল রাহুলদের। ফরিদ খালিফা এই গ্রামে ধাৰ্মিক মানুষ হিসেবে পরিচিত। সে এসে জানায়, বাড়িতে হামলা হতে পারে। হামলাকারীরা বাড়ির জিনিসপত্র নিয়ে গেলে তা ফিরে পাবে। নতুন করে কিনতে পারবে। কিন্তু বাড়ির আওরতদের ওপর হামলা হলে তা আর ফিরে পাবে না। নেপাল রায়রা আপদে-বিপদে ফরিদ খালিফার কাছে ছুটে গেছে সব সময়। তাকে মুরুব্বি হিসেবে মান্য করে। তিনিই যখন বাড়িতে এসে হামলার কথা বলছেন, তা অবিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।

নেপাল জিজ্ঞেস করে, তাহলে আমরা কী করব?
ফরিদ জবাব দেয়, আওরতদের দূরে কোনো আত্মীয়ের বাড়ি পাঠিয়ে দাও।
নেপাল বলে, কিন্তু এখন তো সন্ধ্যা হয়ে আসছে। আপনার দল তো জিতেছে, আপনি একটু ওদের বলে আমাদের রক্ষা করুন |
ফরিদ কিছুটা রেগে গিয়ে বলে, যারা হামলা করবে তাদের তো আমি চিনি না। শুনেছি হামলা হতে পারে। একটা কাজ করতে পারো, আজকের রাতটা বাড়ির আওরতদের আমার বাংলাঘরে পাঠিয়ে দিতে পারো।

নেপাল সরল বিশ্বাসে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যায়। ফরিদ খালিফা আজকের রাতটা বাড়ির ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ জন নারীকে বাড়িতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিয়ে যে উপকার করলেন, তা সে সারা জীবন মনে রাখবে। রাত পোহালেই দূরের কোনো আত্মীয় বাড়ি পাঠিয়ে দেবে স্ত্রী, কন্যা ও বিধবা বোনকে। অন্যান্য শরিকরাও তাই স্থির করে। ফরিদ খালিফার বাংলাঘরে ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ জন বিভিন্ন বয়সের নারীরা কেউ ঘুমিয়েছে, কেউ অন্ধকারে উপরের দিকে তাকিয়ে বাড়ির কথা, ঘরের কথা ভাবছে। এ সময় ফরিদ খালিফা এসে ডাক দেয়। প্রথম ডাকে কেউ জবাব দেয় না। দ্বিতীয়বারও নয়। তৃতীয়বার দরজায় ধাক্কা মেরে যখন ডাকে, তখন একজন উঠে দরজা খুলে দেয়। যে দরজা খুলে দেয় সে নেপালের কন্যা। এবার ক্লাস নাইনে পড়ছে। ফরিদ মেয়েটির মুখে লাইট মারে। তারপর পুরো শরীরে। এরপর পুরো ঘরে। তড়িৎগতিতে টর্চলাইট দরজার বাইরের দিকে ঘুরিয়ে কাদের যেন ভেতরে আসতে আহ্বান করে। একদল নরপশু হুড়মুড় করে ঘরে ঢোকে। ফরিদ নেপাল রায়ের মেয়ের হাত ধরে রেখেছে এক হাতে। সবার ভেতরে ঢোকা হয়ে গেলে অপর হাতে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর একজনকে হারিকেন জালাতে বলে। সবার উদ্দেশ্যে একটি চকচকে ধারালো ছুরি দেখিয়ে জানিয়ে দেয়, কেউ চিৎকার করলে এই ছুরি তার গলায় বসে যাবে। তারপর নেপাল রায়ের মেয়েকে হাত ধরে টেনে নিয়ে যায় ঘরের এক কোণে অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি জায়গায়। রাত বারোটা থেকে তিনটে পর্যন্ত প্রায় পঞ্চাশজন নরপশু এই নারীদের শরীর খুবলে খায়। নেপাল রায়ের মেয়েটি যখন অঞ্জন হয়ে পড়ে তখন ফরিদ ডাকে নেপালের স্ত্রীকে। রক্তাক্ত কন্যাকে দৌড়ে গিয়ে বুকে তুলে নিতে যাচ্ছিল সবিতা। কিন্তু ফরিদ এক ঝটকায় সেখান থেকে ছিনিয়ে আনে সবিতাকে। বিবস্ত্র করে মেয়ের পাশে ধাক্কা মেরে শুইয়ে দেয় সবিতাকে। আর বলতে পারে। না, নেপাল রায় – অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

লেখকঃ প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শ্রী সালাম আজাদ… ।।
সৌজন্যেঃ স্বদেশ সংহতি সংবাদ। পূজা সংখ্যা ২০১৭; পৃষ্ঠা – ১২